পাটুরিয়ায় ঘাট নদীতে বিলীন, ভোগান্তিতে যাত্রী-লঞ্চমালিকরা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩২ পিএম

উত্তাল পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় লঞ্চঘাট ২ দফা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এদিকে দফায় দফায় ঘাট স্থানান্তর করায় লঞ্চঘাটের যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার যোগাযোগের অন্যতম নৌপথ হলো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ এই নৌপথ দিয়ে পারাপার হয়। সহজ ও সময় বাঁচাতে এ নৌপথ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। পদ্মার করালগ্রাসে ২ দফায় লঞ্চঘাটের জেটি ও পন্টুন বিলীন হওয়ার পর দৃশ্যমান কোন উদ্যোগের দেখা নেই বিআইডব্লিউটিএর এমন অভিযোগও উঠেছে।

জানা যায়, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট হয়ে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার প্রবেশের অন্যতম নৌপথ। এই নৌপথ পাড়ি দিয়ে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যান। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালের দিকে পদ্মা নদীর স্রোতে যাত্রী উঠানামার একটি জেটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে যায় এবং বাকিটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। ঘাট স্থানান্তর করার পর শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে পন্টুনের র্যাম্পের গোড়া থেকে মাটি সড়ে যাওয়ায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে পাটুরিয়া’র বিআইডব্লিউটিএর এক নম্বর ঘাটে লঞ্চ সার্ভিসের জন্য দেওয়া হয় এবং সিমিত পরিসরে ১৩ ঘন্টা পর পূনরায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বারবার লঞ্চ ঘাট পরিবর্তনের ফলে নৌপথ পারাপারের যাত্রী অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, ফলে লঞ্চ মালিকরা তাদের কর্মচারীর বেতন দিতে হিমসিমে পড়বে।

অপরদিকে লঞ্চ ঘাট ঝুঁকির মধ্যে আছে- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে জানালেও আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাটুরিয়ায় দুটি ঘাটের জেটি ও পন্টুনের র্যাম্পের গুঁড়ার মাটি বিলীন হলেও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগের দেখা নেই কর্তৃপক্ষের। অতি দ্রুত লঞ্চঘাট মেরামত না করলে বড় ধরণের লোকসানসহ যাত্রী হয়রানির শিকারের সম্ভাবনা রয়েছে। 

রাজবাড়ী গামী যাত্রী ফারুক হোসেন বলেন, পাটুরিয়া ঘাটে এসে শুনলাম লঞ্চঘাট বিলীন হয়েছে পদ্মার তীব্র স্রোতে। তার পর লোক মুখে শুনে নতুন ঘাটে গিয়ে টিকিট কেটে লঞ্চে উঠলাম তবে বর্তমানে যে ঘাটটি রয়েছে তা ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘাটের পাশে যেহেতু কোন দোকানপাট বা লোকজন নেই, শুনশান নিরবতা আর এই কারণে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ জনিত ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। 

পাটুরিয়া ১ নম্বর পন্টুনে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লঞ্চের সুপারভাইজার দ্বায়িপ্রাপ্ত ইয়াছিন মোল্লা বলেন, কয়েক দফায় পাটুরিয়া লঞ্চঘাট পদ্মার ভাঙ্গনের কারণে বিলীন হয়েছে। আজ এক ঘাটে কাল অন্য ঘাটে, এভাবে করেই লঞ্চের যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় যেমন লঞ্চের ভোগান্তি হচ্ছে এমন নয়, সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। ঘাট ভাঙ্গনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসে দেখেন এবং কিছু জিও ব্যাগ ফেলা ছাড়া আর কোন দৃশ্যমান কাজ করেনি।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী এম.ভি মোস্তফা নামের লঞ্চের মাষ্টার সাইদুর রহমান বলেন, পাটুরিয়ায় মূল লঞ্চঘাট নদী গর্ভে বিলীনের পর থেকে নামমাত্র যাত্রী নিয়ে আমাদের নদীপথে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি লঞ্চ বর্তমান সময়ে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যেতে যে পরিমান খরচ হয় তার ৪ ভাগের একভাগও টিকিট বিক্রি হয় না। এই ভাবে যদি চলতে থাকে তবে লঞ্চ মালিকরা আমাদের বেতন দিতে পারবে না।

পাটুরিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির ম্যানেজার পান্নালাল নন্দী বলেন, প্রথম দফায় জেটি ভাঙ্গনের আগে যখন থেকে পদ্মা নদীতে স্রোতের সৃষ্টি হয়, তখন একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে বলেছি, তারা (বিআইডব্লিউটিএ) কোন পাত্তাই দেয় নি। তীব্র পানির স্রোতে যখন জিটি ভেঙ্গে যায়, তখন লোক দেখানো কিছু জিও ব্যাগ ফেলে, যা কিনা কোন কাজেই আসেনি।

পরবর্তীতে দুই নম্বর ঘাটে আমাদের লঞ্চ সার্ভিস শুরু করতে বলে, শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধার দিকে পন্টুনের র্যাটের গোড়ার মাটি সড়ে যায়, লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গত শনিবার (৯ আগস্ট) ১ নম্বর ঘাট থেকে সিমিত পরিসরে লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে। দফায় দফায় ঘাট স্থানান্তরের ফলে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চ নামমাত্র যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে, এতে প্রতিদিন লোকসানে পড়ছে মালিকরা।

মানিকগঞ্জ অঞ্চলের বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া ঘাটে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পন্টুনগুলোকে সড়িয়ে নিয়ে লঞ্চ সার্ভিস গুলোকে চালানোর চেষ্টা করছি।

NJ
আরও পড়ুন