গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে গ্রাম থেকে শহরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। এরই মধ্যে আজ শুক্রবার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন একই তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। চলতি শীত মৌসুমে এর আগেও দুই দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এদিকে চুয়াডাঙ্গায়ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই যশোরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বর্তমানে তা রূপ নিয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে। বিশেষ করে শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কিছুটা কাটলেও সূর্যের তাপ তেমন অনুভূত হচ্ছে না। এতে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।
শহরের শংকরপুর এলাকার শ্রমজীবী নজরুল বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসেছি। এখানে বসে আছি। এখনো কাজ পাইনি। শীতের ভেতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাব কি না জানি না।’
অন্যদিকে তীব্র শীতে জেলায় কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বোরো ধানের বীজতলা এবং আলু ও সরিষার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। শীতের তীব্রতায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকুলও বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, গত শুক্রবার থেকে যশোরে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। এতে বোরো ধান আবাদের বীজতলা, আলু ও টমেটো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
