পেকিন জাতের হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার খামারীরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন দেখা মিলছে সাদা মেঘের মতো ধবধবে একঝাঁক পেকিন জাতের হাঁস। মাংস উৎপাদনের জন্য বিশ্বখ্যাত এই জাতের হাঁস পালন করে অভাব জয় করেছেন স্থানীয় প্রান্তিক নারী ও পুরুষ খামারীরা।

অভাবকে জয় করে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এই এলাকার অন্তত ১৫ জন নারী ও পুরুষ খামারী। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) -এর স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় গড়ে উঠেছে এসব খামার।

গোবিন্দহুদা স্কুলপাড়ার লতিফা খাতুন কিংবা কলুপাড়ার ডলি খাতুন। এক সময় তারা কেবল গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু তারা আজ স্বাবলম্বী।

লতিফা খাতুন জানান, তিনি ১৮ হাজার টাকা ব্যয় করে ৫২টি হাঁস নিয়ে একটি খামার তৈরী করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৫০ হাজার টাকার হাঁস বিক্রি করেছেন। এখনো কিছু হাঁস আছে। সেগুলো বিক্রি করে আরো আয় করতে পারবেন। আগামীতে পরিকল্পিত উপায়ে আরো হাঁস পালন করে বিক্রি করবেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

একই এলাকার কলুপাড়ার ডলি খাতুন বলেন, তিনি ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় ৫০টি হাঁস পেয়েছেন। তিনি ২০টি হাঁস বিক্রি করেছেন ২০ হাজার টাকা দরে,এখনো ৩০টি হাঁস আছে সেগুলোও বিক্রি হবে। এই এলাকায় ৭ জন হাঁস পালন করেছে,তারা সকলেই হাঁস বিক্রি করে লাভবান হয়ে তাদের সংসারে সফলতা এনেছে।  

তবে এই সাফল্যের গল্প শুধু গৃহিণীদের নয়, অনুপ্রাণিত করছে তরুণদেরও। এখন তারা আর পরনির্ভরশীল নন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই উপজেলায় পেকিন হাঁস পালনে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সুফিয়ান খান জানান, দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা ও বিষ্ণুপুর গ্রামে ১৫ জন খামারীকে পেকিন জাতের হাঁস অনুদান দেওয়া হয়েছে। খামারীদের ৫০টি হাঁসের বাচ্চা, মাচা তৈরির ব্যয়, খাবার, ভেক্সিনেশন এবং টেনিংয়ের মাধ্যমে হাঁস পালনে সহযোগীতা দিয়ে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই হাঁস পালন করে ৩ মাসের মধ্যে একেকটি হাঁসের ওজন হয়েছে সাড়ে ৩ কেজি। এই খামারীরা এই হাঁস বিক্রি করে ভাল দাম পেয়ে বেশ লাভবান হয়েছে। সঠিক তদারকিতে খামারীদের মাধ্যমে বদলে গেছে এলাকার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট। 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, পিকেএসএফ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের হাত ধরে চুয়াডাঙ্গার এই প্রান্তিক নারী-পুরুষ এখন দেখছে রঙিন আগামীর স্বপ্ন। এই সহযোগীতার আওতায় আরো গ্রামীণ গৃহিনী ও যুব উদ্যোক্তাদের সংপৃক্ত করার দাবী জানিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সার্বিক সহযোগীতা করেছেন ও করবেন তিনি জানান।

MCH/AHA
আরও পড়ুন