ছয়মাস ধরে কাদায় বাঁধা ৪টি মহিষ ইউএনওর হস্তক্ষেপে উদ্ধার 

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বাঁধা অবস্থায় থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের প্রচেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার এবং মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে কাদা থেকে বের করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোকুলনগর গ্রামের আব্দুল আলিম নামে এক বাসিন্দা তাঁর চারটি মহিষকে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২৪ ঘণ্টাই মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে আটকে থাকতে হতো। ওই কাদার মধ্যেই তাদের খাবার গ্রহণ, দাঁড়িয়ে থাকা এমনকি ঘুমাতেও হতো।

দীর্ঘদিন এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা কয়েকবার মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক সেটা করেননি।

বিষয়টি জানতে পেরে রোববার দুপুরে প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে চারটি মহিষের করুণ অবস্থা সরেজমিনে দেখতে পান তিনি। পরে মহিষগুলোর বুকসমান কাদায় আটকে থাকার দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রাণীগুলোর দুর্ভোগ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। তিনি প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। পরে রোববার সন্ধ্যার পর তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি মহিষকে বুকসমান কাদা থেকে বের করে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। তাই বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সামনে আনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং একই দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে কাদা থেকে বের করে শুকনা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য তিনি ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

MCH
আরও পড়ুন