নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অটোরিকশা চালক খোকন মিয়াকে (৫০) হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন রাত ১০টার দিকে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে ভেবে পালিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। নির্যাতনের শিকার খোকন মিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গাড়াদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে খোকন। তার সহায় সম্পদ বলতে কিছুই নেই। তাই কখনও অটোরিকশা আবার কখনও ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে অটোরিকশা চালকের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ও দুটি ছবি দৈনিক খবর সংযোগের প্রতিবেদকের কাছে এসে পৌঁছে।
এতে দেখা যায়, একটি সিমেন্টের খুঁটিতে হেলান দেওয়া অচেতন অবস্থায় বসে আছে অটোরিকশা চালক খোকন মিয়া। তার দুই পা কাপড় দিয়ে একসাথে বাঁধা। চারপাশে কয়েকজন মানুষ। তাদের একজন বাঁশের লাঠি দিয়ে বার বার খোকন মিয়াকে আঘাত করছে এবং অন্য একজন খোকনের মাথায় পানি দিচ্ছে। তবে একপর্যায়ে খোকন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে ভেবে পালিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ছুটে গিয়ে গুরুতর আহত খোকনকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে গত ২৫ জুন রাত ১০টার দিকে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া গ্রামে এ পাশবিক ও বর্বর ঘটনাটি ঘটলেও জানাজানি হয় অনেক পরে। নির্যাতনের শিকার খোকন মিয়ার স্ত্রী নাজমুন্নাহার বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত একই গ্রামের হাদিস মিয়া, সুন্দর আলী, রুবেল মিয়া, আতাবুর রহমান ও সবিকুলকে আসামি করে গত ২৮ জুন কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
খোকন মিয়ার স্ত্রী নাজমুন্নাহার জানান, আমার স্বামীকে বাঁশ ও রড দিয়ে মেরে সাড়া শরীর পঙ্গু করে দিয়েছে। আমার স্বামী কথা বলতে পারছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি এবং আমার সন্তানদের কি হবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতনকারীরা একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা জুয়ারি ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক। আমার স্বামীর কাছে তারা টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এরই জেরে ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে তারা আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ঢেকে নিয়ে যায় এবং গ্রামের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকুনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এরই মধ্যে তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। অন্য দুজন পলাতক রয়েছেন।
