জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২১ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর র‍্যাবের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জঙ্গল সলিমপুরের কুখ্যাত বাসিন্দা মো. ইয়াসিনকে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনার পর থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযানে গেলে র‍্যাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও চারজন র‍্যাব সদস্য আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলটি দীর্ঘ চার দশক ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমি দখল করে এখানে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। এই বিপুল পরিমাণ জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাটি কার্যত একটি ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে, যা চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ।

DR/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত