তনু হত্যা মামলায় আরও ২ সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

দীর্ঘদিন আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বী ওরফে রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।

পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে আদালতের কাছে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শাহিন আলম কুয়েতে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জাহিদুজ্জামানের বর্তমান অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক দশক পরও মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

MCH/AHA
আরও পড়ুন