লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের দৌরাত্ম 

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বেড়ে চলেছে দালালদের তৎপরতা। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের প্ররোচনায় অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয় কিছু দালাল চক্রের সদস্যরা। তারা মূলত স্থানীয় কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হয়ে কাজ করে বলে অভিযোগ। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ দ্রুত সরে যান, আবার কেউ রোগী বা স্বজন সেজে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

একাধিক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে সরকারি হাসপাতালে করার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর জন্যও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালনের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে বেশি আগ্রহী। এতে একদিকে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং আগের তুলনায় এখন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব হচ্ছে।

দালালদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক প্রচার ও সাইনবোর্ড দেওয়া আছে এবং আমার স্টাফরাও অনেক সচেতন রয়েছে তারপরেও ফাকফুকে ঢুকে তারা এ ধরনের কার্যক্রম করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান,সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দালাল চক্র ও অসাধুদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

AHA
আরও পড়ুন