বাড়ছে তিস্তার পানি

সুন্দরগঞ্জে ভাঙন আতঙ্কে তিস্তা পারের মানুষেরা

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদীপশু ও হাঁস মুরগি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন তিস্তার তীরবর্তী মানুষেরা।

সোমবার (২২ জুন) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভাঙনের বাড়ীঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিম্নাঞ্চলে পরিবার গুলো এবং তীরবর্তী মানুষেরা ভাঙনের দিখে চেয়ে আছে।

জানাযায়, গত তিনদিন থেকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। এতে করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এই ভাঙনে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, উঠতি আমন ক্ষেতসহ ফসলি জমি। গত ৭২ ঘণ্টায় উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের আতঙ্কে পড়েছে ভোরের পাখি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যেই তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। তিস্তার পানি বাড়ায় চরের নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া বা কলা গাছের ভেলা দিয়ে এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াত করছে তারা।

উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিস্তা নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সেই সাথে নদীর প্রবল স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। বেলকা ইউনিয়ন, হরিপুর ইউনিয়ন, নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু হয়েছে, কিছু বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এর ফলে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হচ্ছে এবং চন্ডিপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নে কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পাড়ের মানুষের অভিযোগ প্রতি বছর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন শুরু হয়, যা মাসের পর মাস চলতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ, ড্রেজিং বা নদী খননের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর প্রায় চার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও হাজারো একর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, গত শনিবার থেকে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর লালচামার গ্রামের সফিয়াল, শরফ আলী, আবুল মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলামসহ ৫০ জনের বাড়ি ও শতাধিক বিঘা আমন ক্ষেত বিলীন হয়েছে। 

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়া বলেন, ভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বহুবার সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আপাতত শুধুমাত্র ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে প্রাথমিক প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, স্থায়ী সমাধান না হলে চরবাসীর দুঃখ কোনো দিনও দূর হবে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফ্ফার জাহান তুলি জানান, গত শনিবার থেকে তিস্তার পানি বাড়ায় চরের নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে, নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে উত্তর লালচামার গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার খবর পেয়েছি। কিছু গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনে পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। 

MCH/SN
আরও পড়ুন