ছেলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে, পদ হারালেন বিএনপি নেতা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলের অংশগ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য এবং বগুড়া শহর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। 

তবে তার দাবি, কোনো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ছাড়াই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।

দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সেও অংশ নেয়।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় সিফাত হোসেনের সঙ্গে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।

বহিষ্কারের বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এর আগে আমাকে কোনো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমার ছেলের বয়স ১৮ বছর। সে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপিতে এমন অনেক নেতা আছেন, যাদের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমাকে যদি এ কারণে বহিষ্কার করা হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে মহানগর বিএনপি ও জেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

AHA
আরও পড়ুন