দুই মন্ত্রীর সামনেই বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতেই বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব আরও জোরালো হয়।

গতকালের সভায় জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম এমপি রোকন উদ্দিন বাবুলের সমালোচনা করেন। এর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান রোকন উদ্দিন বাবুলের অনুসারী ও সমর্থকেরা। তাঁরা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত নির্বাচনে ধানের শীষের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ, একই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীনসহ পাঁচজন আহত হন।

আহত হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে তাদের মুঠোফোন যাচাই করে ভিডিওগুলো মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর চেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আহত হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, তার বাবাকে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মধ্যরাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁদের জানা নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত দেখতে পায়।

এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হকের মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মিরা একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এম.সি.এইচ
আরও পড়ুন