অনলাইনে রেলের টিকিট মুহূর্তে শেষ, আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ এএম

সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনের টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন আদালত। সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পাওয়ায় কালোবাজারির আশঙ্কা দেখা দেওয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান মামলাটি করেন।

সম্প্রতি করা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ। তিনি আদালতের স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেট থেকে ঢাকা রুটে উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করে। এসব ট্রেনের টিকিটও অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে টিকিট পেতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনলাইনে টিকিট কাটতে না পেরে অনেককে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে টিকিট কিনতে হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসন্তোষ দেখা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে আদালতের নজরে আসে। পরে রেলের ওয়েবসাইটে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন আদালত। এত অল্প সময়ে সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

আদালতের ধারণা, একটি চক্র রেলের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও কারও সহায়তায় মুহূর্তেই টিকিট কিনে মজুত করছে এবং পরে বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে করা মামলায় টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, রেলের টিকিট অনলাইনে কিনতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও টিকিট নেন। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই।

এমইউ
আরও পড়ুন