আলিফ হত্যা মামলা

চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিচার শুরুর আদেশ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। আদালত ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ হাজতে থাকা ২৩ জনের উপস্থিতিতে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের সূচনা হলো। আদালত একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, সকালে আদালতে হাজির ছিলেন ২৩ জন হাজতি আসামি। পলাতক থাকা ১৬ জন আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ। এছাড়া চিন্ময় দাসের পক্ষে অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। হাজতি আসামিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি আদালতে তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন।

হাজতি আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নিজেই ২৫ মিনিট ধরে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যান্য হাজতি আসামিদের মধ্যে আরও দুইজন আদালতে সরাসরি বক্তব্য রাখেন।

বাদীপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এ মামলা দেশের জনগণ, আইনজীবী সমাজ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। উপস্থাপিত প্রমাণাদির ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আদালতের নির্দেশ ও চার্জের বিবরণ

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ জানান, আদালত আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

সকালের হাজতির সময় কঠোর নিরাপত্তা জারি ছিল। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মিলিয়ে শতাধিক সদস্য আদালত প্রাঙ্গণে মোতায়েন ছিলেন।

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুন হন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিনঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এরপর ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন।

মামলায় মোট ৩৯ জন আসামি রয়েছে। হাজতে থাকা আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।

মোট ১৬ জন আসামি এখনও পলাতক, তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

SN
আরও পড়ুন