রিমান্ড শেষে কারাগারে মেজর আখতারুজ্জামান

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ভাঙা গলায় বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।’

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এদিন এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর আদালতে শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

শুনানীকালে আসামিপক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের অধিক আইনজীবী হাজির হন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি ৪০-এর অধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শুরুর আগেই দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা যায়। তখন বিচারক এজলাস থেকে নেমে খাসকামরায় যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দুপক্ষকে শান্ত হতে বলেন। 

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি আখতারুজ্জামানও দুই হাত জড়ো করে দুপক্ষকে থামতে বলেন। এরপর পরিবেশ শান্ত হলে বিচারক এজলাসে আসেন। শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ভাঙা গলায় বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।’ আসামিপক্ষ জামিন চান ও রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে কারাগারে পাঠানোর জোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন আদালতে উঠার আগে রাগে নিজের মাথায় থাকা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আখতারুজ্জামানকে বলতে দেখা যায়, ‘সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।’ এসময় পুলিশ সদস্যদেরও ধমকাতে দেখা যায় তাকে।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের নামে মামলা দায়ের করা হয়।

জেএম
আরও পড়ুন