এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ২০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ৮৭ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিঙ্গাপুরে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক সিফফাত উদ্দীন এসব সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন পৃথক দুটি আদেশে এ নির্দেশনা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি রেজাউল করিম রেজা। তিনি জানান, দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ এ আবেদন করেন।
জব্দ করতে আদেশ দেওয়া ১৬টি সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে—গুলশানের এস আলম টাওয়ারে ১০ তলা ভবন, ধানমন্ডিতে এক বিঘা জমিসহ ৬ তলা ভবন, ধানমন্ডি লেক সার্কাসে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ জমিসহ ৪ তলা ভবন, গুলশানের ২৬৫৮ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত ফ্ল্যাট, গুলশান-২ এর প্লট দশমিক ৭৮৮৮ একর জমি, উত্তরা আবাসিক এলাকায় ৭ তলা ভবন, ভাটারা এলাকায় ১০৩ দশমিক ০৩ কাঠা জমির প্লটসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি।
এস আলম গ্রুপের অন্য যাদের সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—এস আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীন, মা চেমন আরা বেগম, ভাই মোহাম্মদ আবুদুল্লাহ হাসান, ওসমান গনি, রাশেদুল আলম, শহিদুল আলম, এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম, আশরাফুল আলম মাহির ও আসাদুল আলম, ওসমানের স্ত্রী ফারজানা বেগম এবং এস আলমের ভাই আবদুস সামাদের স্ত্রী শাহ ফেরদানা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে ১ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে এস আলম, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তার পরিবারের ১১ সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

