বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আমিরাত সরকারকে দুদকের চিঠি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ চিঠি পাঠানো হয় বলে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর দুই সদস্য দুপুরে দুদক কার্যালয়ে এসে বেনজীরের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিষয়টি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ও এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানেই আটক রয়েছেন।

ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করার পর, ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের দিন তিনি লন্ডন থেকে দুবাইয়ে এসে ট্রানজিটের অপেক্ষায় ছিলেন। বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরায় তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরপরই দুবাই এয়ারপোর্ট পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পাসপোর্ট জালিয়াতি করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় তিনি পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এই ঘটনাকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলা হচ্ছে। কারণ, প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক পুলিশ প্রধানকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো।

Attr/AHA
আরও পড়ুন