ইউরোপের বুকে অবাধ চলাচলের দ্বার উন্মোচনকারী এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের নাম ‘শেনজেন চুক্তি’। সহজ কথায়, এই চুক্তির ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের ভেতরের সীমান্ত তুলে দিয়ে পুরো অঞ্চলটিকে একটি মাত্র সীমানাহীন ভৌগোলিক এলাকায় রূপান্তর করেছে।
শেনজেন চুক্তির পেছনের ইতিহাস
১৯৮৫ সালের ১৪ জুন লাক্সেমবার্গের ‘শেনজেন’ নামক স্থানে মোজেল নদীতে ভাসমান একটি জাহাজে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লাক্সেমবার্গ—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠাতা দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় ১৯৯৫ সালে।
শেনজেন অঞ্চল ও বর্তমান সদস্য
বর্তমানে ইউরোপের ২৯টি দেশ নিয়ে এই শেনজেন অঞ্চল গঠিত। সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও লিচটেনস্টাইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য না হয়েও এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, আবার আয়ারল্যান্ডের মতো কিছু ইইউ সদস্য দেশ নিজস্ব সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
কেন এত জনপ্রিয় এই ব্যবস্থা?
এই চুক্তির ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতে কোনো পাসপোর্ট চেকিং বা সীমান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় না। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ‘শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেম’ (SIS) নামক যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে।
শেনজেন ভিসা কীভাবে কাজ করে?
যেকোনো একটি শেনজেন দেশের স্বল্পমেয়াদী ভিসা (টাইপ-সি) দিয়ে পুরো শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণ করা সম্ভব। এই ভিসায় ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যায় এবং সবচেয়ে বেশি সময় যে দেশে থাকবেন, আবেদন করতে হয় সেই দেশের দূতাবাসেই।
তথ্যসূত্র: শেনজেন চুক্তি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাতিষ্ঠানিক নথি।
স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করলো ইতালি
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যু
আষারিয়ারচর ২য় সেতুর মাঝখানে গর্ত : ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল
লালপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে
ইরানের অবকাঠামোয় হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি