যুবদল থেকে বহিষ্কার

চাঁদা দাবির অভিযোগে এমপি পুত্র ডিবি হেফাজতে

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০২:১৯ এএম

চাঁদা দাবির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আজহারুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামকে (সজীব) আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে
নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে আনা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করেন খাইরুল। টাকা না দেওয়ায় গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেন খাইরুল। 

সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম (সজীব)।

স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পকারখানার সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতেন খাইরুল ইসলাম। চাহিদামতো টাকা না পেলে কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এ ছাড়া খাইরুলের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব খাটিয়ে এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল, ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (২১ জুন) ডিবি আটক করার পর জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাইরুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এর আগে দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় খাইরুলকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। 

পরে তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিকেল ৫টার দিকে আনা হয়। এরপর ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ 

এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।

HN
আরও পড়ুন