ঢাবি শিক্ষকদের মূল্যায়নে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

‘এক্সটার্নাল প্রেসার’ তৈরির আশা রাফিয়ার

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগের শিক্ষকদের সম্পর্কে মূল্যায়ন দিতে পারবেন।

উদ্যোক্তাদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে আছে। এর মধ্যে নিজ উদ্যোগে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান ও বিভাগগুলোর শিখনব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। মূল্যায়নে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। ই-মেইলে পাঠানো কোডের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে কী মূল্যায়ন করেছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে সব শিক্ষার্থীর দেওয়া মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে দেখা যাবে।

উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ডাকসুর কার্যক্রম শুরুর পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে না যাওয়ায় নিজ উদ্যোগে একটি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। রাফিয়ার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো। তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভাগগুলোর শিখনব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের সার্বিক অবস্থার একটি ধারণা শিক্ষার্থীদের সামনে দৃশ্যমান রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদানসহ শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে এটি এক ধরনের ‘এক্সটার্নাল প্রেসার’ বা বাহ্যিক চাপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। তবে এ শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ নয়। ফলে মূল্যায়নের পদ্ধতি, ফলাফল যাচাই এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে তিনি তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

জেএম
আরও পড়ুন