প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র পাননি ‘আড়াই হাজার’ প্রার্থী

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভেরিফিকেশন শেষে অনেকের নাম নিয়োগপত্রের তালিকায় না থাকায় বাদ পড়ার কারণ জানানো এবং পুনরায় যাচাই ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রার্থীদের একটি সংগঠনের দাবি, প্রায় আড়াই হাজার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা জানায়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ অক্টোবরের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর পক্ষ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাইসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন অনেকের নিয়োগপত্র আটকে গেছে, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং শিক্ষাগত সনদ যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়োগপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে। তবে কোন কারণে কতজন প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে গেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাদ পড়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে প্রত্যেকের নথি নিরপেক্ষভাবে পুনরায় যাচাই, তথ্যগত ভুলের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ এসেছে। প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাবনা, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জসহ অন্তত ১৫ জেলায় ৩৫১ জন নিয়োগপত্র পাননি। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের কথা রয়েছে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।

তবে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের প্রশ্ন, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নাম নিয়োগপত্রের তালিকায় নেই এবং ভেরিফিকেশনে কী তথ্য পাওয়া গেছে এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ১ অক্টোবরের আগে বিষয়টির সুরাহা হবে কি না, তা নিয়েই উদ্বেগে রয়েছেন তারা।

এএম
আরও পড়ুন