বিদ্যালয়ের আঙিনায় সেদিন চোখের জল লুকাতে পারেননি কেউই। ছাত্র-ছাত্রী আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কর্মজীবনের ইতি টানলেন ভোলা সদরের ৫৫নং চরসামাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভিড়ে পুরো আয়োজনে নেমে আসে বিষণ্ণ আবেগের ছায়া।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার বহু আগেই শিক্ষকতার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন ফজলুর রহমান। ভোলা সদরের ঐতিহ্যবাহী চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় পাঠদান করেছেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে আসার পর সততা, নিষ্ঠা ও মেধার ছাপ রেখেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে। চর রমেশ, চরকালি, মুরাদ ছবুল্লাহ ও ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজও তাঁর স্নেহমাখা পাঠদানের স্মৃতি বুকে আগলে রাখে।
কাজের এই স্বীকৃতি মিলেছে হাতেনাতে। ২০১১ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা পান তিনি। ২০১৬ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মনোনয়নে থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে অভিজ্ঞতার ঝুলি আরও সমৃদ্ধ করেন।
ভোলা সদরের চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী সেকান্দার আলী হাজী বাড়ির মরহুম নুরুল হক হাওলাদার ও মরহুমা আনোয়ারা বেগমের সন্তান তিনি। চার সন্তানের জনক ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী মোহসেন আরা বেগমও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জেলা সদরের পশ্চিম রুহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি অবসরে গেছেন তিনিও। শিক্ষক দম্পতির সন্তানরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক ‘উত্তরদক্ষিণ’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ অতিথিদের কণ্ঠ বারবার ভারী হয়ে আসে। সহকর্মীদের ভাষ্য, ফজলুর রহমান শুধু প্রধান শিক্ষক ছিলেন না; ছিলেন অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও শিক্ষার্থীদের পরম শ্রদ্ধার পাত্র।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন ও শুভকামনা জানিয়ে বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে।
দেশের সব মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা
চবি ক্যাম্পাসে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা
ছুটি শেষে স্কুল-মাদ্রাসা খুলছে আজ