দীর্ঘ সাত বছর পর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গকসুর ৪র্থ অভিষেক অনুষ্ঠান।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জাতীয় সংগীত, কুরআন তেলাওয়াত এবং প্রয়াত শিক্ষক মো. আখতার-উল-আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীত পরিচালক এনায়েত এ মাওলা জিন্নাহর স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
ড. সিরাজুল চৌধুরী বলেন, ‘জাফরুল্লাহর হাত ধরেই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান। তিনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, অসংখ্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। ছাত্র সংসদ কী, তার গুরুত্ব তিনিই সবচেয়ে ভালো জানতেন। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কারিগরি স্থাপনা নয়; এটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মিলনে জ্ঞানচর্চা দাঁড়ায়। ছাত্র সংসদ ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শক। ছাত্র সমাজ দেশের ইতিহাসে যে ভূমিকা রেখেছে, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, তা আজও অনুকরণীয়।’
পুঁজিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান উন্নয়ন কাঠামো মুনাফাকেন্দ্রিক। এর কারণে পৃথিবী জুড়ে মহামারি, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধমূলক সংকট দেখা দিচ্ছে। পুঁজিবাদ চরম সংকটে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, ব্যক্তিমালিকানার এই কাঠামোই কি চলবে, নাকি সামাজিক মালিকানার দিকে সমাজ এগোবে?’
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্র সংসদ মূলত শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সরকার। তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করাই সংসদের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি—এসব দায়িত্বও এই সংসদ পালন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হবে। উন্নয়ন, নিষ্ঠা ও অগ্রগতির মাধ্যমে এমন অবস্থানে যেতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী গর্ব করে বলতে পারে, এটাই তার বিশ্ববিদ্যালয়।’
সম্প্রতি র্যাগিং ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি। প্রশাসন তদন্ত কমিটি করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
গকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) বলেন, ‘আজ আমাদের ৪র্থ ছাত্র সংসদের অভিষেক। আমি স্মরণ করছি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারকে। দীর্ঘ সাত বছর ছাত্র সংসদ বন্ধ ছিল, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এত বছর নির্বাচন বন্ধ না থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানে অংশগ্রহণের সুযোগ, কাজ করার সুযোগ। সব প্রার্থীর ইশতেহার আমরা এক করে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রথমেই স্মরণ করছি আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারকে। তিনি গণমানুষের চিকিৎসার কথা ভেবে গণস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; বিশ্ববিদ্যালয়েও নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ছাত্র সংসদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও ভালো অবস্থানে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই হবে এই সংসদের মূল দায়িত্ব।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, গকসুর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ এবং জাকসুর সাবেক উপাচার্য মো. আমিরুল ইসলামসহ জাকসু নেতারা।
আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়