মরনোত্তর দেহদান নয়, ইসলামি রীতিতে দাফন চান কবীর সুমন

‘অনেক ভেবে আমি সেই সিদ্ধান্ত পাল্টালাম। দেহদানের ইচ্ছে প্রত্যাহার করছি আমি। আমার দেহ আমি দান করব না।’

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫, ০৭:১০ পিএম

২০২১ সালে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছিলেন পশ্চিবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। তবে বর্তমানে মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এখন মরণোত্তর দেহদান নয় বরং ইসলামী রীতিতে নিজের মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এই গায়ক।

বুধবার (৫ মার্চ) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই। 

কবীর সুমন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রমজান মোবারক! সকলকে জানাতে চাই, বছরখানেক আগে এই ফেসবুকেই ঘোষণা করেছিলাম-আমি আমার দেহ দান করেছি, কোনো ধর্মীয় শেষকৃত্য চাই না। অনেক ভেবে আমি সেই সিদ্ধান্ত পাল্টালাম। দেহদানের ইচ্ছে প্রত্যাহার করছি আমি। আমার দেহ আমি দান করব না।’

এই গায়কের ইচ্ছে,  কলকাতার মাটিতেই যেন তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়। তিনি লেখেন, ‘আমি চাই আমাকে এই কলকাতারই মাটিতে, সম্ভব হলে গোবরায়, ইসলামী রীতিতে কবর দেওয়া হোক। এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমার কতিপয় স্বজনকে এটা জানিয়ে দিলাম।’

সবশেষে কবীর সুমন লিখেছেন, ‘আমার এই ঘোষণার বিষয়ে কারোর কোনো মত বা মন্তব্য চাই না। সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’

সংগীতশিল্পী কবীর সুমন বছর চারেক আগে দেহদানের কথা বলেছিলেন। পরে অঙ্গীকারপত্রে সইও করেন তিনি। এক ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমন লিখেছিলেন, ‘আমার মৃতদেহ যেন দান করা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে। কোনো স্মরণসভা, শোকসভা, প্রার্থনাসভা যেন না হয়।’

১৯৯২ সালে গানের অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’ প্রকাশের পর জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কবীর সুমন। আধুনিক বাংলা গানের জনপ্রিয় এ শিল্পী বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সমান জনপ্রিয়।

একসময় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন মমতার পাশে। এরপর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সংসদ সদস্য হন। পরে বনিবনা না হওয়ায় তৃণমূল ছাড়েন।

কবীর সুমনের নাম ছিল সুমন চট্টোপাধ্যায়। ধর্মান্তরিত হয়ে কবীর সুমন নাম ধারণ করেন। তার জন্ম ভারতের ওডিশা রাজ্যে, ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ।

 

FJ
আরও পড়ুন