যুক্তরাজ্যের সঙ্গীত জগতে গত ৩০ বছরে মোট আয়ের সিংহভাগই এসেছে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত থেকে। তবে আয়ে বিশাল অবদান থাকলেও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নীতি-নির্ধারণী ভূমিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের উপস্থিতি এখনো নগণ্য বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রিটিশ বাণিজ্যিক সঙ্গীত শিল্পের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ইউকে মিউজিক’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত তিন দশকে যুক্তরাজ্যের মিউজিকে মোট ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড আয়ের মধ্যে ২৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ডই (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা) এসেছে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত বা ব্ল্যাক মিউজিক থেকে। অর্থাৎ, মোট আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এই ধারার অবদান।
এত বড় অংকের রাজস্ব আসলেও শীর্ষ পদে কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থান এখনো হতাশাজনক। ২০২৪ সালের 'ইউকে মিউজিক ডাইভারসিটি রিপোর্ট' অনুযায়ী, লন্ডনের ৪৬ শতাংশ জনসংখ্যা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর হলেও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে তাদের হার মাত্র ২২ শতাংশ।
এছাড়া ২০২১ সালের 'ব্ল্যাক লাইভস ইন মিউজিক' রিপোর্টের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শ্বেতাঙ্গ পেশাদারদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী-কর্মীরা গড়ে কম পারিশ্রমিক পান, যা 'রেশিয়াল পে গ্যাপ বলে পরিচিত।
ইউকে মিউজিকের বৈচিত্র্য বিষয়ক প্রধান ইউনিস ওবিয়ানাগা বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির মূল চালিকাশক্তি যে ব্ল্যাক মিউজিক, সেটি এখন স্বীকৃত। তাই সরকারের দেওয়া ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশেষ বিনিয়োগ প্যাকেজের একটি অংশ এই ধারার উদ্ভাবন ও সুরক্ষায় ব্যয় করা উচিত।’
অন্যদিকে, ব্ল্যাক লাইভস ইন মিউজিকের প্রধান নির্বাহী চ্যারিস বিউমন্ট বলেন, ‘বিক্রয় ও জনপ্রিয়তায় আমাদের প্রভাব বিশাল। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট বা নেতৃত্বের জায়গায় আমরা কোথায়? এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।’
এই প্রতিবেদনে টেকনো, কে-পপ এবং হাউজ মিউজিকের মতো ১৩৮টি ভিন্ন ঘরানার সংগীতকে কৃষ্ণাঙ্গ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিকাগো বা ডেট্রয়েট থেকে উদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতিই এসব জনপ্রিয় সুরের মূল উৎস।
কনসার্টে ট্রাম্পকে ট্রোল করলেন বিটলস কিংবদন্তি ম্যাকার্টনি
