২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলায় রোগীর মৃত্যু

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

২০০ ট‌াকার জন‌্য অক্সিজেন মাস্ক খু‌লে ফেলায় ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক‌্যালে এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্মচারীদের দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার বিকালে হাসপাতালের মে‌ডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। মৃত দিপালী সিকদার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।       

মৃতের স্বজনরা সাংবা‌দিকদের জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে দিপালীকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শয্যাসংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। 

দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১-এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। পার্শ্ববর্তী অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে আমাদের সামনে বসেই মাত্র ২০০ টাকা দেয়। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয় ও ট্রলি‌টি নিতে চায়। আমরা হাত-পা ধরলেও সে শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোন মারা যায়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন। 

দিপালীর মৃত্যুতে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে ধরে গণধোলাই দেওয়া শুরু হলে হাসপাতালের অন্য স্টাফরা কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। 

এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন বলেছেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ঐ কর্মচারীকে বেদম মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করি।

সংঘর্ষের পরপরই অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছে। সোহেলের ব‌্যবহৃত মোবাইল নম্বর‌টি বন্ধ রয়েছে।

ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের প‌রিচালক ব্রিগে‌ডিয়ার জেনারেল এ কে এম ম‌শিউল মুনীর জানান, ঐ কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে, পাশাপা‌শি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

HN
আরও পড়ুন