একটি সকাল কীভাবে মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, তার করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী। গত বছরের অক্টোবরের সেই অভিশপ্ত সকালে স্ট্রোক করার পর থেকে আজ অবধি হাসপাতালের বিছানা আর হুইলচেয়ারের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ‘উত্তরের সুর’খ্যাত এই গুণী নির্মাতার জীবন।
স্ট্রোকের পর বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে সিআরপিতে (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন রয়েছেন শাহনেওয়াজ কাকলী। প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি—এই তিনটি থেরাপিই এখন তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন। কাকলীর স্বামী, অভিনেতা প্রাণ রায় জানান, উন্নতি হচ্ছে তবে তা অত্যন্ত ধীরগতিতে। আগে স্ট্রেচারে করে আনা-নেওয়া করতে হতো, এখন হুইলচেয়ারে বসানো যায়। অন্যের সাহায্যে বড়জোর ১০-১২ পা হাঁটতে পারেন তিনি। তবে বাম হাত ও পা এখনো অবশ, কথা বলার সময় মুখ বেঁকে যাচ্ছে।
কাকলীর চিকিৎসার পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। দীর্ঘ চার মাসের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। প্রাণ রায় জানান, তাঁদের দীর্ঘদিনের জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। তাঁর নির্মিতব্য ছবি ‘ফ্রম বাংলাদেশ’-এর জন্য রাখা টাকাও এখন চিকিৎসার খরচে ব্যয় হচ্ছে। এমনকি গত চার বছর ধরে যে শখের গাড়িটিতে চড়ে তাঁরা শুটিং বা ভ্রমণে যেতেন, সেই স্মৃতিমাখা বাহনটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনে।
কাকলীকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য গত চার মাস কোনো শুটিংয়ে অংশ নিতে পারছেন না প্রাণ রায়। ফলে আয়ের পথও বন্ধ। শাহনেওয়াজ কাকলী শুধু একজন নির্মাতাই নন, তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী একজন সফল পরিচালক। ২০১২ সালে ‘উত্তরের সুর’ এবং ২০১৫ সালে ‘নদীজন’ ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের সম্মাননা পান। তাঁর নতুন ছবি ‘ফ্রম বাংলাদেশ’-এর কাজ প্রায় শেষ হলেও নির্মাতার অসুস্থতায় সব থমকে আছে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের জটিলতা নিয়ে লড়তে থাকা এই নির্মাতার সুস্থতার জন্য এখন শুধু অলৌকিক কোনো কামনাই করছে তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। যে মানুষটি ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে গল্পের প্রাণ দিতেন, আজ তিনি নিজেই নিজের শরীরকে বশ করার কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ। তবু আশা, কোনো একদিন হয়তো আবারও ‘অ্যাকশন’ বলে ফিরবেন তিনি।
জন্মদিনে হঠাৎ অসুস্থ সঞ্জয় লীলা বানসালি
