বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত পাখি 'হুডেড পিটোহুই'

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

নিউ গিনির ঘন বৃষ্টিঅরণ্যে বাস করে এক ব্যতিক্রমী পাখি, যার নাম হুডেড পিটোহুই। সাধারণ পাখির মতো নিরীহ নয়, বরং শরীরে শক্তিশালী বিষ বহন করার কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত পাখি হিসেবে পরিচিত। কমলা ও কালো রঙের এই পাখির দেহে এমন এক ধরনের বিষ রয়েছে, যা বিষাক্ত ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’-এর শরীরেও পাওয়া যায়।

গবেষকদের মতে, এই পাখির পালক বা চামড়া স্পর্শ করলে মানুষের শরীরে ঝিঁঝি ধরা, অবশভাব, স্নায়বিক জটিলতা এমনকি হালকা ধরনের পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এর মাংস খাওয়ার ফলেও একই ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে বিজ্ঞানী জ্যাক ডামবেকার নিউ গিনিতে গবেষণাকালে প্রথম হুডেড পিটোহুইয়ের বিষাক্ত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন। পাখিটি হাতে ধরার পর অসাবধানতাবশত তিনি নিজের মুখ ও চোখে হাত দিলে ত্বক ও চোখে জ্বালাপোড়া, ঝিঁঝি ধরা এবং অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি টের পান।

এই ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, পাখিটির চামড়া ও পালকে এমন একটি বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, যা সামান্য স্পর্শেই মানুষের শরীরে অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ডামবেকার ও তার গবেষণা দল এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তারা দেখান, হুডেড পিটোহুইয়ের চামড়া ও পালকে বাট্রাকোটক্সিন নামের অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বিষ এবং এর সমগোত্রীয় আরও কিছু বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষের জন্য বিষাক্ত হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এটিই প্রথম পাখি। গবেষকদের মতে, এই বিষ শিকারি প্রাণী ও বিভিন্ন পরজীবীর আক্রমণ থেকে পাখিটিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হুডেড পিটোহুইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি নিজে থেকে শরীরে বিষ উৎপাদন করতে পারে না। বরং খাদ্যের মাধ্যমে বিষ সংগ্রহ করে শরীরে সঞ্চয় করে।

জ্যাক ডামবেকার ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় জানতে পারেন, এই পাখি প্রধানত মেলিরিড বিটল নামে পরিচিত এক ধরনের গুবরে পোকা খায়। এসব পোকার শরীরে প্রচুর পরিমাণে বাট্রাকোটক্সিন থাকে। নিয়মিত এই পোকা খাওয়ার ফলেই পাখিটির চামড়া ও পালকে বিষ জমা হয়। 

প্রকৃতিতে আত্মরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো অ্যাপোসেমেটিজম, অর্থাৎ উজ্জ্বল সতর্কীকরণ রং। হুডেড পিটোহুইয়ের কালো ও কমলা রঙের পালক শিকারিদের সতর্ক করে দেয় যে, এটি বিষাক্ত এবং খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়।

বিষাক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে নিউ গিনির স্থানীয় বাসিন্দারাও বহু আগে থেকেই এই পাখিকে এড়িয়ে চলেন। তারা সাধারণত পাখিটিকে ধরে না বা স্পর্শ করে না। স্থানীয়ভাবে এটি ‘আবর্জনা পাখি’ কিংবা ‘অনুপযোগী পাখি’ নামেও পরিচিত।

MAZ/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত