পৃথিবীর আবহাওয়ার মানচিত্রে লাল রঙের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এখন এমন এক শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা আবহাওয়াবিদদের নজরে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি ১৯৫০ সালের পরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমে একে ইতিমধ্যে ‘সুপার এল নিনো’ বা আরও জোরালোভাবে ‘সুপার-ডুপার এল নিনো’ বলা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীদের ব্যবহৃত আনুষ্ঠানিক ভাষায় মূল বিষয় হলো—এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño event, যার প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
প্রশ্ন হলো, এল নিনো আসলে কী? কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? আর এবার কেন বিজ্ঞানীরা এত সতর্ক?
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো El Niño-Southern Oscillation (ENSO)-এর উষ্ণ পর্যায়। সাধারণ অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি পশ্চিম দিকে, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে জমা হয়। কিন্তু এল নিনোর সময় বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে এই উষ্ণ পানি পূর্বদিকে সরে আসে এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে।
এই সমুদ্রের উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফলে এক অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে, অন্য অঞ্চলে দেখা দিতে পারে খরা ও তাপপ্রবাহ।
অর্থাৎ এল নিনো নিজে কোনো ঝড় নয়; বরং এটি এমন একটি বৃহৎ মহাসাগরীয়-বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ বদলে দিতে পারে।
এবার কতটা শক্তিশালী?
যুক্তরাষ্ট্রের NOAA-এর সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের শরৎ ও শীতকালে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। পূর্বাঞ্চলীয় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ইতিমধ্যে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়েছিল।
NOAA-এর অক্টোবর ৭-এর GFDL মডেল পূর্বাভাস আরও গুরুত্বপূর্ণ। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান এল নিনো এখন শীর্ষ পর্যায়ের কাছাকাছি এবং অন্তত গত ৩০ বছরের পর্যবেক্ষিত এল নিনো ঘটনাগুলোর তুলনায় এটি শক্তিশালী। মডেল অনুযায়ী, শীতের শুরুতে এটি দুর্বল হতে পারে; কিন্তু দুর্বল হওয়ার আগেও এর আবহাওয়াগত প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
অন্যদিকে WMO জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তুলনার জন্য ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সর্বোচ্চ অস্বাভাবিকতা ছিল প্রায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই সংখ্যাগুলোই বোঝাচ্ছে কেন বর্তমান ঘটনাকে ঘিরে এত আলোচনা।
‘পুরো পৃথিবী লাল’ মানে কী?
স্যাটেলাইট ও আবহাওয়ার বিভিন্ন মানচিত্রে লাল বা কমলা রং সাধারণত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠকে বোঝায়। তাই ‘প্রায় পুরো পৃথিবী লাল’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চল একই মাত্রায় উত্তপ্ত—এমন নয়।
বরং এর অর্থ হলো, বিশ্বের বিস্তীর্ণ সমুদ্র ও স্থলভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণতার অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রার পটভূমি ইতিমধ্যে অত্যন্ত উষ্ণ।
এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত এই উষ্ণতা আবার মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কাজ করছে। ফলে প্রাকৃতিক এল নিনো এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একসঙ্গে কাজ করলে কিছু অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তাপপ্রবাহের ঝুঁকি
এল নিনোর অন্যতম বড় প্রভাব হলো বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া।
WMO জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা জুলাই ২০২৩-এর রেকর্ডের সমান হয়ে ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এর মধ্যে সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বড় ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির সংলগ্ন ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১৮৯৫ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ সেপ্টেম্বর রেকর্ড হয়েছে। গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল।
তবে এখানেও সতর্ক থাকা জরুরি—কোনো নির্দিষ্ট দেশের একটি তাপপ্রবাহকে একমাত্র এল নিনোর কারণে হয়েছে বলা যায় না। আবহাওয়ার ওপর একসঙ্গে অনেকগুলো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ কাজ করে।
কোথাও বৃষ্টি, কোথাও খরা
এল নিনোর সবচেয়ে জটিল বৈশিষ্ট্য হলো—এর প্রভাব সব জায়গায় একই রকম নয়।
কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে খরা দেখা দিতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের ধরন বদলে দেয় বলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টিপাতও প্রভাবিত হয়।
ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ওই মাসের জন্য রেকর্ড সর্বোচ্চ ছিল। ১৯৯১-২০২০ সময়কালের গড়ের তুলনায় জলীয়বাষ্প ছিল ৬.৫ শতাংশ বেশি। একই মাসে পৃথিবীর প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
অর্থাৎ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত তাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতাও জমা হচ্ছে। আর বায়ুমণ্ডলে যত বেশি জলীয়বাষ্প থাকে, উপযুক্ত আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হলে তত বেশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেও অদ্ভুত প্রভাব
এল নিনোর আরেকটি পরিচিত প্রভাব দেখা যায় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে।
সাধারণভাবে শক্তিশালী এল নিনো আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির পরিবেশকে প্রতিকূল করে তুলতে পারে। কারণ এটি ওপরের স্তরের বায়ুপ্রবাহে এমন পরিবর্তন ঘটায়, যা ঝড়ের সংগঠিত হওয়া কঠিন করে।
২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমে এ ধরনের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সেখানে দীর্ঘ সময় কোনো হারিকেন তৈরি হয়নি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, অক্টোবরেই ইসাইয়াস নামে একটি ঝড় তৈরি হয়ে হারিকেনের শক্তি অর্জন করে। গবেষকদের মতে, মেক্সিকো উপসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি এবং স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন এল নিনোর সাধারণ প্রভাবকে কিছুটা ভেঙে দিয়েছে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—এল নিনো কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার ফলাফলকে নিশ্চিত করে না; বরং নির্দিষ্ট ধরনের আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় বা কমায়।
কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় চাপ
এল নিনোর সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক প্রভাবগুলোর একটি হতে পারে খাদ্য উৎপাদনে।
খরা হলে ফসলের উৎপাদন কমতে পারে। আবার অতিবৃষ্টি হলে ক্ষেত নষ্ট, বন্যা, রোগবালাই ও সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে মাছের প্রাপ্যতাও বদলে যেতে পারে, কারণ সমুদ্রের তাপমাত্রা ও স্রোতের পরিবর্তনে সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়।
ইতিমধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে চাপ দেখা যাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর খাদ্য মূল্যসূচক সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি এল নিনোর আশঙ্কাকেও খাদ্যবাজারের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে এল নিনো শুধু আবহাওয়ার খবর নয়; এটি কৃষক, ভোক্তা, খাদ্য আমদানিকারক এবং সরকারের জন্যও অর্থনৈতিক বিষয়।
বাংলাদেশে কী হতে পারে?
বাংলাদেশ এল নিনোর প্রভাব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। তবে বাংলাদেশে এল নিনোর নির্দিষ্ট প্রভাব আগে থেকেই নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া কঠিন।
দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া ব্যবস্থার ওপর এল নিনোর প্রভাব জটিল এবং ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা, মৌসুমি বায়ু, স্থানীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অন্যান্য জলবায়ুগত পরিস্থিতির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
তাই ‘এল নিনো মানেই বাংলাদেশে খরা’ বা ‘এল নিনো মানেই অতিবৃষ্টি’—এমন সরল সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো একসঙ্গে থাকলে তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, কৃষিতে চাপ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশে তাই মৌসুমি পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।
সমুদ্রও দিচ্ছে বিপদের সংকেত
এল নিনোর কেন্দ্র প্রশান্ত মহাসাগর হলেও এর প্রভাব সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যেও পড়ে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্রবালপ্রাচীরের ওপর চাপ বাড়ে, মাছের বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তিত হতে পারে এবং সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
NOAA-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান শক্তিশালী এল নিনোর সঙ্গে সামুদ্রিক উষ্ণতা ও প্রবাল-সংক্রান্ত ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আর সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার অর্থ হলো, বায়ুমণ্ডলেও অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার জোগান তৈরি হওয়া। এ কারণেই এল নিনোকে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না।
‘সুপার-ডুপার’—কতটা ভয়ংকর?
‘সুপার-ডুপার এল নিনো’ শব্দটি শুনতে ভয়াবহ হলেও এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময়ে দুর্যোগ আঘাত হানবে।
NOAA নিজেই বলছে, অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো হলেও প্রত্যেক অঞ্চলে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ঘটনা যত শক্তিশালী হয়, সাধারণত এল নিনোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।
এখানেই বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের গুরুত্ব। আবহাওয়াবিদেরা মূলত ‘কী ঘটবেই’ তা বলার চেয়ে কোন ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা বাড়ছে সেটি বোঝানোর চেষ্টা করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় সামনে
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো এখন শীর্ষ পর্যায়ের কাছাকাছি। NOAA-এর অক্টোবরের মডেল শীতের শুরুতে দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও WMO বলছে, বর্তমান ঘটনা ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ শারীরিকভাবে এল নিনো দুর্বল হওয়ার আগেও এর প্রভাব কিছু অঞ্চলে আরও তীব্র হতে পারে।
এই সময় বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর নজর রাখা হবে—বিশেষ করে তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টি, খরা, কৃষি উৎপাদন, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং খাদ্যবাজারের ওপর।
আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই গুরুত্বপূর্ণ
‘প্রায় পুরো পৃথিবীই লাল’—এমন মানচিত্র স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কিন্তু এল নিনোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে আতঙ্কের চেয়ে তথ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতি যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর সতর্কতা স্পষ্ট। NOAA-এর মডেল এটিকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে দেখছে, আর WMO বলছে এটি অন্তত ১৯৫০ সালের পরের শক্তিশালী ঘটনাগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
কিন্তু এর অর্থ পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চল একই ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়বে—তা নয়।
বরং সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, প্রকৃতির এই বৃহৎ জলবায়ুগত দোলনের সঙ্গে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যখন একসঙ্গে কাজ করছে, তখন আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে।
২০২৬-২৭ সালের এল নিনো তাই শুধু আবহাওয়ার একটি ঘটনা নয়। এটি হতে পারে কৃষি, খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, সমুদ্র ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় বৈশ্বিক পরীক্ষা—যার প্রকৃত প্রভাব আগামী কয়েক মাসে আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেলো ডিপি ওয়ার্ল্ড
১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির আশা
১৯৪ বছর বয়সী কচ্ছপের দীর্ঘ জীবনের রহস্যের সন্ধান
কেসি কলেজে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, ফটকের বাইরে শিবিরের নবীনবরণ
অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান: গৃহায়ন মন্ত্রী
ফ্রান্সে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য নিয়ে যা জানা গেলো