অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে এক ঐতিহাসিক সংস্কার সম্পন্ন করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইডিসিএল-এর অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করে। এক বছরের মধ্যেই তার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা একজন আন্তর্জাতিক মানের ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আমেরিকা ও কানাডার নামী আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানিতে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্য উন্নয়ন বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ইডিসিএল-এ যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিদেশের বিলাসবহুল জীবন ও উচ্চ বেতনের হাতছানি উপেক্ষা করে দেশমাতৃকার টানে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশে ফিরে আসেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আব্দুস সামাদ মৃধা দায়িত্ব নেওয়ার পর ইডিসিএল-এর কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করে ২ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অদক্ষ জনবল চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ অদক্ষ জনবলকে ছাঁটাই করা হয়েছে, যার ফলে গত এক বছরে বেতন খাতে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, জনবল কমানোর পরেও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ওষুধের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৫৯ কোটি টাকা বেড়েছে।
তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি জবাবদিহিতা বেড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা প্রতিদিন এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কাজের মধ্যবর্তী অলস সময় (Down time) কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে গত এক বছরে ৬,১১,৭৮১ কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইডিসিএল-এর ৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সাশ্রয় করেছে। একই সঙ্গে ওভারটাইম বাবদ খরচ কমেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়া টোল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে। ৩৩টি আইটেমের টোল ম্যানুফ্যাকচারিং বর্তমানে ১২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ক্রয় প্রক্রিয়ায় আগের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন আব্দুস সামাদ মৃধা। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে টেন্ডারের মাধ্যমে গুণগত মানের কাঁচামাল কেনা হচ্ছে। আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, মেরোপেনাম, মেজ স্টার্চ এবং সেফিক্সিম ট্রাই হাইড্রেটের মতো কাঁচামাল ক্রয়ে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় হয়েছে। শুধু ক্রয় খাতেই এক বছরে ২৬.৬৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। নগদ ক্রয় কমিয়ে কমিটি-ভিত্তিক টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু এবং স্থানীয় এজেন্টদের বকেয়া বিল কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে তিনি ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। বাকি ওষুধের দাম কমানোর প্রক্রিয়াও চলমান। ওষুধের উৎপাদন খরচ কমাতে ইউএসপি, বিপি এবং জিএমপি মান বজায় রেখে অপ্রয়োজনীয় এক্সিপিয়েন্ট এবং সলভেন্টের পরিমাণ কমিয়ে আধুনিক ফর্মুলা প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বর্তমানে সিরাজদিখান উপজেলায় এফডিএ (FDA) গাইডলাইন অনুযায়ী ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হলে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। এছাড়া অ্যান্টি-ভেনম, অ্যান্টি-র্যাবিস এবং ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের কাজও দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তেজগাঁওয়ে জিএমপি মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে ৯ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ প্রকল্পে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা ১১৪ কোটি টাকার স্যালাইন তৈরির যন্ত্রপাতি তিনি চালু করেছেন। বর্তমানে সেখানে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও স্যালাইন উৎপাদন শুরু হয়েছে। এছাড়া ইডিসিএল-কে ডিজিটাল করতে ইআরপি সফটওয়্যার এবং ই-টেন্ডারিং প্রবর্তন করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বগুড়া, খুলনা ও মধুপুর প্ল্যান্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
এই বিশাল সংস্কার কার্যক্রমের ফলে সিন্ডিকেট এবং চাকরিচ্যুত ৬০০ অদক্ষ জনবলের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা। ওষুধ ও কাঁচামাল সিন্ডিকেটের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তারা এই সফল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তবে সকল বাধা উপেক্ষা করে ইডিসিএল-কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
অত্যাবশ্যকীয় ৩৩ ওষুধের দাম কমিয়েছে ইডিসিএল
ইডিসিএল-এর অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন
