একমাসের রোজায় মানবদেহে যেসব পরিবর্তন ঘটে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার সমাগত পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থেকে রোজা পালন করছেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা শরীরের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এক মাসের এই উপবাস প্রক্রিয়া শরীরকে ধাপে ধাপে সুস্থ ও শুদ্ধ করে তোলে।

প্রথম দুই দিন: খাপ খাইয়ে নেওয়া

শেষবার খাবার খাওয়ার অন্তত আট ঘণ্টা পর থেকে শরীরে রোজার প্রভাব পড়তে শুরু করে। সাধারণ অবস্থায় শরীর যকৃৎ ও মাংসপেশিতে সঞ্চিত গ্লুকোজ থেকে শক্তি নেয়। কিন্তু রোজার সময় এই গ্লুকোজ শেষ হলে শরীর চর্বি পোড়াতে শুরু করে, যা ওজন কমাতে এবং কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এ সময় রক্তে সুগার কমে যাওয়ায় কিছুটা দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা ঝিমুনি ভাব হতে পারে।

৩ থেকে ৭ দিন: পানিশূন্যতা থেকে সাবধান

এই পর্যায়ে শরীর রোজার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে। তাই ইফতার ও সেহরিতে প্রচুর পানি পান করা জরুরি। এ সময় খাবারে পর্যাপ্ত শর্করা, প্রোটিন ও লবণের ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮ থেকে ১৫ দিন: শরীরের অভ্যন্তরীণ নিরাময়

ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ড. রাজিন মাহরুফ জানান, দ্বিতীয় সপ্তাহে শরীর রোজায় পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। যেহেতু শরীর তখন ক্যালরি কম গ্রহণ করে, তাই এটি নিজের ক্ষত সারিয়ে তোলা এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এই পর্যায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১৬ থেকে ৩০ দিন: চূড়ান্ত শুদ্ধিকরণ ও কর্মক্ষমতা

রমজানের শেষার্ধে শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং ত্বক এক ধরনের বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় শরীর থেকে সব দূষিত পদার্থ বা টক্সিন বেরিয়ে যায়। এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পায়। একই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং শরীর অনেক বেশি হালকা ও শক্তিশালী মনে হয়।

রোজা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবশ্যই ভালো। তবে সেটি তখনই সম্ভব যখন ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নিশ্চিত করা হয়। ড. মাহরুফ বলেন, রোজা রাখা শরীরকে ডিটক্স করার সেরা উপায়। তবে ওজন কমানোর জন্য একটানা মাসের পর মাস রোজা রাখা উচিত নয়, কারণ শরীর তখন শক্তির জন্য মাংসপেশির ওপর নির্ভর করতে শুরু করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

NB/
আরও পড়ুন