৩৫ জেলায় ভয়ংকর ভাইরাস, আইইডিসিআরের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

দেশের ৩৫টি জেলায় প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার এবং সংক্রমণের ধরনে উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) দেশে শনাক্ত হওয়া চারজন রোগীর সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং প্রথমবারের মতো শীতকাল ছাড়া ‘অ-মৌসুমি কেস’ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।

আইইডিসিআরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং তাদের চারজনই মারা যান (মৃত্যুহার ১০০%)। গ্লোবাল গড় মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে নিপাহ আক্রান্তদের মৃত্যুর হার শতভাগ। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

এতদিন ধারণা করা হতো নিপাহ ভাইরাস কেবল শীতকালে খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর শরীরে নিপাহ শনাক্ত হওয়া এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। শিশুটি বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল খেয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। এটিই বাংলাদেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’।

আইইডিসিআর সতর্ক করেছে যে, বাদুড়ের লালা বা মূত্র দ্বারা দূষিত যেকোনো আধা-খাওয়া ফল খাওয়ার মাধ্যমে সারা বছরই নিপাহ সংক্রমণ হতে পারে।

প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি অন্য মানুষে সংক্রমণ ছড়ায়। এটি মূলত নিপাহ আক্রান্ত রোগীর সেবা করা স্বাস্থ্যকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘২০২৫ সালের অমৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণের পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি একটি বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হয়েছে।’

নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও দেশে ৫ জন নিপাহ আক্রান্ত হয়ে সবাই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

DR/FJ
আরও পড়ুন