এলপিজি মালিক সমিতির ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খুচরা বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। এতে করে ভোক্তারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং চড়া দাম সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়েও গ্যাস না পাওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সংকট।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ এই অতিরিক্ত দাম আদায় করছে।
রাজধানী মিরপুরের গৃহীনি ইসরাত জাহান বলেন, ‘মহল্লার বিভিন্ন দোকান ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে একটি দোকান থেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছি। এভাবে জিম্মি করে দাম আদায় করা একেবারেই অন্যায়।’
একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান আরিফ ইসলাম। তিনি বলেন, সকালে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ডিপো ও দোকান ঘুরেও এলপিজি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। এখন বেশি দাম দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে আনলাম।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এলপিজি মালিক সমিতি ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সারা দেশে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সংকট কাটেনি।
খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, এলপিজি কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছে না। অনেক ক্ষেত্রে কোনো মেমো ছাড়াই মাত্র ৪ থেকে ৬টি সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও বলেন, নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার ভোক্তার কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

