মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ আর মধু আহরণের মৌমাছির বাক্স চোখে পড়ছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষিরা।
শীতকালের সরিষার মৌসুমে ফসলি মাঠে এ দৃশ্য গোটা উপজেলাজুড়ে। ফসলি মাঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে শত শত মৌ-বাক্স সারি সারি সাজিয়ে রেখে মৌমাছির আবাস গড়ে তোলা হয়। তাতে বিশেষ পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরি হয় ও পরবর্তীতে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
মনিরুজ্জামান নামে একজন কৃষক জানান, এই সরিষা মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে মৌ চাষীরা আমাদের কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠের সরিষা খেতে মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স স্থাপন করেছেন।
মৌচাষি আজহারুল ইসলাম বলেন, সরিষা খেত থেকে আমরা বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করি। অন্য আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছি পুষে রাখা হয়। গত বছর মে মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মৌমাছি পুষতে প্রায় সাত লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। তখন সর্বত্র সরিষার ফুল ফোঁটে।

তিনি আরও বলেন, আকার ভেদে একটি বাক্সে ৩০-৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। এখানে মৌ চাষের বিশেষ বাক্স কলোনি রয়েছে ১০০টি। প্রতিটি কলোনিতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি কেজি মধু খুচরা বিক্রি হয় ৪০০-৭০০ টাকা দরে। প্রতি কলোনিতে লাভ হয় ৬/৭ হাজার টাকার মতো।
এছাড়া, মধু চাষের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড় আক্রমণ কম করে বলেও তিনি জানান।
জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন মৌ-চাষীরা। বিগত কয়েক বছর ধরে সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে চাষিরা একদিকে আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। পাশাপাশি সরিষা ফুলে মৌমাছির দ্বারা পরাগায়নের ফলে সরিষার বাম্পার ফলনও হচ্ছে।
উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. জিয়াউল হক জানান, মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিগত বছরের মতো এবারো তেল জাতীয় ফসলের খেতে মৌচাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ জন কৃষককে কয়েক শতাধিক মৌ বক্স এবং মধু সংগ্রহ যন্ত্র বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মধু চাষিদের সরিষার জমি থেকে মধু সংগ্রহে উৎসাহিত করে থাকি। এতে সরিষার পরাগায়ন যেমন ভালো হয়, আবার তেলের উৎপাদনও বাড়ে। ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হন।

