নির্বাচনের জামানত কী, কেন বাজেয়াপ্ত করা হয়

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

সদ্য শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে মোটাদাগে লড়াই হয়েছে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে। যদিও ভোটের লড়াইয়ে বেশির ভাগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জামানত হলো নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়।

একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবারও একটি বড় সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কিন্তু ঠিক কতজন প্রার্থী, তার সঠিক হিসেব পাওয়া যায়নি। কোন কোন আসনে দেখা গেছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি।

প্রতিটি নির্বাচনে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। ন্যূনতম ভোট না পেয়ে জামানতের টাকা রক্ষা করতে পারেন না প্রার্থীরা।

বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদেরকে ২৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা আগে জমা দিতে হয়।

পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ হতে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নয় হাজার ৫০০ টাকা আর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এক হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয়।

নির্বাচন শেষে কমিশন জামানত বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটা তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী বাতিল হওয়া জামানতের টাকা অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। আর যেসব প্রার্থীরা জামানত হারাননি, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জামানতের টাকা তারা তুলে নিতে পারেন।

কিন্তু জামানত তুলে নেওয়ার মতো অবস্থায় থেকেও আসলে কতজন প্রার্থী তাদের সেই টাকা তুলে নিতে আবেদন করেন তা নিয়েও সংশয় আছে। যদিও এ সংক্রান্ত কোন হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।

NB
আরও পড়ুন