নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে কীভাবে হবে তা নির্ভর করছে মেয়র, চেয়ারম্যানদের অপসারণ প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তির ওপর।

এজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আইনগত কোনো বাধা আছে কি না, তা জানতে চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পাশাপাশি সব জেলার স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপপরিচালককে চিঠি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০২৪ সালের প্রথমভাগে বেশিরভাগ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী নির্বাচনের সময় এখনও হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করে। 

স্থানীয় সরকারের এই চার স্তরে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৭৬ জন জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়। এই অপসারণ করতে গিয়ে 'স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪', 'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪', 'জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' ও 'উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' জারি করে সরকার। ফলে এই অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ জাতীয় সংসদে অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এছাড়া এ অপসারণের বিষয়ে কিছু মামলা রয়েছে। সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়াও জরুরি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ছাড়া বাকি ১১টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন সবার আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরপর ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন হবে। পৌরসভার নির্বাচনের পর ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। 

আর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সবার শেষে হতে পারে। কারণ অনেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মামলা করেছেন, মামলাগুলো নিষ্পত্তি করেই নির্বাচন করা হবে। বিশেষ করে পলাতক থাকা চেয়ারম্যানদের ইউনিয়নে নির্বাচন করা নিয়ে বিতর্ক আছে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সুরাইয়া আখতার জাহান বলেন, 'সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সব পর্য়ায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে আইনগত কোনো সমস্যা আছে কি না জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পাশাপাশি  নির্বাচন কমিশনকে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।'

একই মন্ত্রণালয়ের আরেক অতিরিক্ত সচিব (পৌরসভা অনুবিভাগ) খোন্দকার মো. নাজমুল হুদা শামিম বলেন, 'সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমরা সব জেলার স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপপরিচালককে চিঠি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছি। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে সব তথ্য আছে, এরপরও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোন পৌরসভার নির্বাচন কবে হয়েছিল, পরবর্তী নির্বাচনের সময় কখন, কোথাও কোনো মামলা আছে কি না ইত্যাদি তথ্য নেওয়া হচ্ছে।'

এদিকে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ করেছে সরকার। এই ছয়টি সিটি কর্পোরেশনেই বিএনপির দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাকি পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে আগামী সপ্তাহে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব।'

প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, 'এতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন বিলম্বিত হবে না।

SN
আরও পড়ুন