ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শুরুতেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করে সংসদ কক্ষ থেকে ‘ওয়াক আউট’ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।
অধিবেশন শুরুর পর থেকেই ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জোটের এমপিরা স্লোগান দিতে দিতে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ওয়াক আউট করার সময় জামায়াত ও এনসিপির (NCP) সংসদ সদস্যদের ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়। মূলত বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বৈধতা এবং তার ভাষণ দেওয়ার অধিকার নিয়ে জোটের দলগুলো আগে থেকেই কঠোর আপত্তি তুলে আসছিল। তাদের দাবি, বর্তমান রাষ্ট্রপতির এই সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো নৈতিক বা আইনি অধিকার নেই।
সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বিরোধী দলগুলো এটিকে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেয়। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করাকে সংসদীয় ভাষায় ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়। বাংলাদেশে অতীতেও বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর ওয়াক আউট করার নজির থাকলেও, নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এমন নজিরবিহীন স্লোগান ও বিক্ষোভ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলো।
স্পিকার নির্বাচনে বিরোধী দলের নীরবতা
স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
