বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করার পর দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের অধিকাংশ বাস নির্ধারিত ভাড়া নিলেও কিছু কিছু রুটে বাড়তি ভাড়ার আদায়ের অভিযোগ করছে সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানী কল্যাণপুর ও গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোর অধিকাংশ সরকার নির্ধারিত তালিকা মেনে চললেও, কিছু কিছু রুটে বাড়তি ভাড়ার আদায়ের অভিযোগ করছে সাধারণ যাত্রীরা।
রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে রংপুর রুটে নিয়মিত চলাচল করা নাবিল পরবিহনের যাত্রী ইকবাল মিয়া খবর সংযোগ বলেন, ‘আমার ব্যবসায়িক কাজে প্রায় সময় ঢাকায় আসা লাগে। এখন নতুন করে সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। কোন বাড়তি ভাড়া চায়নি। আজকের আমার কাছ থেকে ৭৫০ টাকা রাখছে। এদের সার্ভিস ও ভালো।’

গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে মেহেরপুরগামী যাত্রী আক্কাছ আলী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে নতুন ভাড়ার থেকে বেশি নিয়েছে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এই রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা। আমার কাছ থেকে ৮০০ নিয়েছে। এর জন্য কথা বলার জন্য আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আসলে সরকারের চেষ্টা আছে কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা অনেক খারাপ। ওরা ওদের খুশি মত ভাড়া নেয়। আর ঈদের সময় তো কথাই নেই।’
কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী খায়রুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি খবর সংযোগকে বলেন, ‘আমি সব সময় হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়িতে চলাচল করি। কারণ ওদের গাড়ির দ্রুত যা যা এবং ব্যবস্থাপনা ভালো। আগে যখনই যেতাম তখন একেক সময় একেক ভাড়া নিতো। যে যার খুশি মত। তবে আজ দেখলাম কাউন্টারে নতুন তালিকা ঝুলানো আছে এবং সেই অনুযায়ীই টাকা নিল। সরকারের এই কঠোর নজরদারি বজায় থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হয়।’
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল পরিবহনের সুপারভাইজার বাবু মিয়া বলেন,‘ মালিকপক্ষ থেকে আমাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তালিকার বাইরে এক টাকাও যেন বেশি না নেওয়া হয়। আমরা যাত্রীদের অভিযোগ করার সুযোগ দিতে চাই না। নিয়ম মেনে চলাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাসযাত্রীদের জন্য নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা (সায়েদাবাদ)-চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সায়েদাবাদ-সিলেট রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫৮০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৪০ টাকা। সায়েদাবাদ-বরিশাল রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪৬৪ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৫৯২ টাকা। সায়েদাবাদ-খুলনা রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৫৪১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসভাড়া ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ রুট সায়েদাবাদ-টেকনাফে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা (গাবতলী)-পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৮১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রংপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-দিনাজপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯৭৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৪১ টাকা।
এদিকে ঢাকা (গাবতলী)-ঝিনাইদহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৬৩৯ টাকা।
ঢাকা (গাবতলী)-রাজশাহী রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-মেহেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৮১ টাকা।
এছাড়াও মহাখালী রুটের আওতায় ঢাকার মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করা ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯৪ টাকা। পাশাপাশি এই রুটে ৪০ আসনের বাসে ভাড়া পড়বে ৩৭৫ টাকা। সেই সঙ্গে মহাখালী থেকে জামালপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ৩৮৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ভাড়া পড়বে ৪৯২ টাকা।
ঢাকা (মহাখালী)-শেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪২১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৩৭ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-কিশোরগঞ্জ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাস ভাড়া বাড়লো
সরকারের সিদ্ধান্তের আগে বাস ভাড়া বৃদ্ধি না করার নির্দেশনা
আজ থেকে গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া, কোন রুটে কত