প্রবাসীদের সুবিধা আদায়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের স্বার্থ রক্ষা ও সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে দেশটির সরকারপ্রধান আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংগ্রি লা-তে আয়োজিত এক প্রবাসী মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।

মতবিনিময় সভায় দেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে একটি গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব মিলেমিশে দেশটাকে গড়ে তোলা। তাই আমাদের কী দাবি আছে তা নিয়ে পড়ে না থেকে, দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে- তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল দিকগুলো, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো প্রবাসীদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার পরিচ্ছন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশিদের শ্রমের প্রশংসা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমার দেশের ভাইয়েরা যদি প্রবাসে এসে এত সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক কাজ করতে পারে, তবে আমরা নিজ দেশে কেন পারব না?

১/১১ পরিচ্ছদের স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় এবং তারপরেও আমার, আমার মা এবং ভাইয়ের সাথে যে অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটেছে তা কল্পনাও করা যায় না। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রী। আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতাম। কিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি কারো উপকার বয়ে আনে না, তাই আমাদের এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে মালয়েশিয়ার আইনের মধ্য থেকে প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা আদায়ের ব্যাপারে তিনি এই বৈঠকে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।

SN
আরও পড়ুন