স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব কি না, সে বিষয়েও ভাবনা চলছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রস্তুতির অবস্থা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচন অক্টোবর, নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর—যে সময়েই হোক, কমিশন অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। অক্টোবরে ভোট হলে তার প্রায় ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে নির্বাচন আয়োজনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া হবে না।
সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন নিয়েও আলোচনা হয়। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে সভায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। লজিস্টিক, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে বিধায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দলগুলোর কাছে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণও এসব খসড়ার ওপর মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলে জানান আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, মতামত পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
সভায় বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
দক্ষ জনশক্তি গঠনে সুইস সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস
পুলিশে ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হলেন মো. মনিরুজ্জামান মিঞা
চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরু: পানিসম্পদ মন্ত্রী