দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগে সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ২৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন। এছাড়া খাগড়াছড়িতে ১ জন আহত, বান্দরবানে ২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭, মৌলভীবাজারে ৩৮ হাজার ১৭২, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০, খাগড়াছড়িতে ২৭ হাজার ২২০, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্গত সাত জেলার জন্য চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মোট ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য পৃথকভাবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হচ্ছে।
ফটিকছড়িতে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী