আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ এবং দলের নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শুরু হওয়া সভা চলে তিন ঘণ্টার বেশি সময়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সভা শেষ হয়। এতে বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।
সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং দলীয় শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের কোনো নেতা-কর্মী, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সরকার গঠনের পর আট মাসে কী কী কাজ হয়েছে, কোন কাজের অগ্রগতি কতটুকু এবং বাস্তবায়নে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যার কথাও শোনেন তিনি।
বৈঠকে কয়েকজন সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জামিনে মুক্তি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে কী কারণে জামিন হচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তারা। বিএনপির কোনো আইনজীবী যাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করেন, সে বিষয়েও কঠোর হওয়ার মত দেন কয়েকজন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। কয়েকজন সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর জোর দেন। জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কাউকে প্রার্থী করা থেকে বিরত থাকার বিষয়েও সতর্ক করেন।
সংসদ সদস্যদের দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলকে ভুলে গেলে চলবে না; সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গেও কয়েকজন সংসদ সদস্য কথা বলেন। এ বিষয়ে দেশে ফিরলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বরিশালের এক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, কোনো দলীয় ব্যক্তি অপরাধে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠকে কয়েকজন সংসদ সদস্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের মতামত গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিশেষ করে সারের ডিলারশিপ নির্ধারণ এবং নির্বাচনী এলাকার বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের অবহিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকি বাড়ানোর বিষয়েও সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। জবাবে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছোট শিশুদের স্কুলমুখী করতে দলের প্রতিটি কমিটিকে কাজে লাগানোর কথা বলেন।
সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, অন্যায় করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। বিএনপি চায়, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পান। এ বিষয়ে দল পরে সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈঠকে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদে থাকা ও জীবনযাপনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশ না চাওয়া জামায়াত প্রতিবাদ করছে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি: রাশেদ খাঁন
ডলারের দাপটে টালমাটাল বিশ্ববাজার
ইউক্রেনকে অস্ত্র ও তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকি দিলো যুক্তরাষ্ট্র