দলিলে জমির পরিমাণ কম-বেশি থাকলে কী করবেন?

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

জমি কেনার পর দলিল হাতে নিয়ে দেখা গেল, সেখানে জমির পরিমাণ লেখা আছে ১০ শতাংশ। কিন্তু সর্বশেষ খতিয়ানে রয়েছে ৯ শতাংশ ৫০ শতক। আবার সরেজমিনে আমিন দিয়ে মাপার পর পাওয়া গেল ৮ শতাংশ ৭৫ শতক। এমন পরিস্থিতিতে অনেক জমির মালিক বুঝতে পারেন না—কোন নথিটি সঠিক, কোথায় ভুল হয়েছে এবং কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন।

জমির পরিমাণে এ ধরনের অমিলকে ছোটখাটো ভুল ভেবে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। ভবিষ্যতে নামজারি, জমি বিক্রি, নির্মাণকাজ, সীমানা নির্ধারণ কিংবা উত্তরাধিকার বণ্টনের সময় বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হতে পারে। এমনকি একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা অন্যের জমি নিজের বলে দাবি করার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

তবে দলিলে জমির পরিমাণ কম-বেশি থাকলেই যে মালিকানা হারাতে হবে, এমন নয়। আবার দলিলে বেশি লেখা থাকলেই অতিরিক্ত জমির মালিকানা নিশ্চিত হয়ে যায় না। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দলিলের ধারাবাহিকতা, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির তফসিল, চৌহদ্দি, দখল এবং জরিপের তথ্য একসঙ্গে যাচাই করতে হয়।

প্রথমেই বুঝুন, ভুলটি কোথায়

জমির পরিমাণে অমিল দেখা দিলে প্রথম কাজ হলো সংশ্লিষ্ট সব নথি পাশাপাশি রেখে যাচাই করা। সাধারণত চার ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়।

১. দলিলে ভুল, কিন্তু খতিয়ান ও বাস্তব জমির পরিমাণ ঠিক

কখনো দলিল লেখার সময় জমির পরিমাণ অঙ্কে বা কথায় ভুল লেখা হয়। যেমন, বিক্রেতা ও ক্রেতার সম্মতি ছিল ৫ শতাংশ জমি বিক্রির, কিন্তু অসাবধানতাবশত দলিলে ৬ শতাংশ লেখা হয়েছে। আবার ৫.৫০ শতাংশের জায়গায় ৫.০৫ শতাংশ লেখা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে মূল চুক্তি, বিক্রেতার মালিকানার দলিল, আগের খতিয়ান, দখল ও জমির সীমানা যাচাই করে ভুলটি নিশ্চিত করতে হবে।

২. দলিল ঠিক, কিন্তু খতিয়ানে জমির পরিমাণ কম বা বেশি

জরিপের সময় পরিমাপ, হিসাব বা তথ্য লিপিবদ্ধ করার ভুলের কারণে দলিলের সঙ্গে খতিয়ানের অমিল হতে পারে। পুরোনো সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ানের মধ্যে জমির পরিমাণ বা দাগ নম্বরে পার্থক্যও দেখা যায়।

এ ক্ষেত্রে কোন জরিপের রেকর্ডে ভুল হয়েছে, সেটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ সংশোধিত রেকর্ডের ভুল সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।

৩. দলিল ও খতিয়ান ঠিক, কিন্তু বাস্তবে জমি কম পাওয়া যাচ্ছে

এ ধরনের ঘটনায় সীমানা, দখল, পাশের জমির মালিকের সঙ্গে বিরোধ কিংবা জমির কিছু অংশ অন্যের দখলে থাকার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। কখনো দাগ নম্বর ঠিক থাকলেও সীমানা নির্ধারণে ভুল হয়।

এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার বা আমিন দিয়ে জমি মাপাতে হবে। পাশাপাশি মৌজা ম্যাপ, খতিয়ান ও দলিলের তফসিল মিলিয়ে দেখতে হবে। শুধু স্থানীয়ভাবে মাপজোখ করলেই মালিকানা বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয় না।

৪. দলিলেই জমির পরিমাণ বেশি লেখা, বিক্রেতার মালিকানা কম

এটি তুলনামূলক গুরুতর পরিস্থিতি। কোনো বিক্রেতা নিজের মালিকানার চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করলে দলিলে উল্লেখিত পুরো জমির বৈধ মালিকানা ক্রেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যান না। বিক্রেতার মালিকানার উৎস, পূর্ববর্তী দলিল, উত্তরাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট দাগে তাঁর প্রকৃত অংশ যাচাই করতে হবে।

দলিলের ভুল হলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী, প্রতারণা বা পক্ষগুলোর পারস্পরিক ভুলের কারণে কোনো লিখিত দলিল তাঁদের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাঁর স্বার্থ-উত্তরাধিকারী দলিল সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।

আদালত যদি প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হন যে দলিল তৈরির সময় প্রতারণা বা ভুল হয়েছিল এবং পক্ষগুলোর প্রকৃত ইচ্ছা কী ছিল, তাহলে আদালত দলিল সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে ও মূল্য দিয়ে যে অধিকার অর্জন করেছেন, তাঁর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে সংশোধন করা যাবে না।

বাস্তবে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয় পক্ষ ভুল স্বীকার করলে আইনজীবীর পরামর্শে সংশোধনী দলিল বা প্রয়োজনীয় নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা উচিত। তবে এক পক্ষের সম্মতি না থাকলে বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে শুধু একতরফা আবেদনে মূল দলিলের বিষয়বস্তু বদলে ফেলা যায় না। তখন আদালতের আশ্রয় নিতে হতে পারে।

খতিয়ানে জমির পরিমাণ ভুল হলে কোথায় যাবেন?

খতিয়ানের ভুলের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের জায়গা আলাদা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ কম-বেশি হওয়া, ভুল নামজারি, কিংবা সংশ্লিষ্ট একাধিক নামজারি মামলার কারণে রেকর্ডে ভুল সৃষ্টি হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বিবিধ বা মিস মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৫০ ধারার ক্ষমতাবলে রাজস্ব কর্মকর্তা উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে নামজারি-জমাখারিজ-জমা একত্রীকরণের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদনে ভুলের বিবরণ, নিজের স্বত্ব কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। এরপর শুনানি ও নথি যাচাই করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণের ভুল সংশোধন এবং বিএস খতিয়ানের কিছু করণিক ভুলও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিবিধ মামলার মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। তবে সব ধরনের জরিপ-রেকর্ডের বিরোধকে সাধারণ নামজারি সংশোধনের আবেদন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।

চূড়ান্ত জরিপ রেকর্ডে ভুল হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল

সর্বশেষ সংশোধিত জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ডে ভুল থাকলে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৫এ ধারায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ সংশোধিত রেকর্ডের চূড়ান্ত প্রকাশনা থেকে উদ্ভূত মামলা নিষ্পত্তি করে।

আইনের ১৪৫এ ধারার ৬ উপধারা অনুযায়ী, সাধারণভাবে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশের তারিখ অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার তারিখ—যেটি পরে—সেখান থেকে এক বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। তবে ৭ উপধারায় নির্ধারিত শর্তে বিলম্বের কারণ সন্তোষজনক হলে পরবর্তী এক বছরের মধ্যেও মামলা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ভুল ঘোষণা করে তা সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে, তা নির্ভর করবে বিরোধটি চূড়ান্ত জরিপ রেকর্ডের ভুল, নাকি মূল মালিকানা বা দলিলের বিরোধ—তার ওপর। তাই মামলা করার আগে ভূমি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নামজারি করলেই কি মালিকানা নিশ্চিত হয়?

জমির মালিকানা নিয়ে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—নামজারি হয়ে গেলে জমির মালিকানা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে নামজারি মূলত সরকারি ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ এবং ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নামজারি খতিয়ানে মালিকের নাম, মৌজা, জেএল নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং প্রাপ্য অংশের হিসাব থাকে। কিন্তু নামজারি নিজে কোনো ত্রুটিপূর্ণ দলিলকে বৈধ করে দেয় না কিংবা অন্যের বৈধ মালিকানা বাতিল করে না।

তাই দলিলে ১০ শতাংশ লেখা থাকলেও নামজারিতে ৮ শতাংশ উঠলে শুধু নামজারি করিয়ে বাকি ২ শতাংশের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আগে দেখতে হবে বাকি জমির ওপর ক্রেতার বৈধ স্বত্ব আছে কি না এবং রেকর্ডে ভুল হয়েছে কি না।

কী কী কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন?

দলিল, খতিয়ান ও বাস্তব জমির পরিমাণে অমিল দেখা দিলে শুরুতেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একত্র করুন।

১. সংশ্লিষ্ট জমির মূল দলিল এবং সার্টিফায়েড কপি।

২. বিক্রেতার মালিকানার পূর্ববর্তী দলিল বা বায়া দলিল।

৩. সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি—যেগুলো প্রযোজ্য।

৪. সংশ্লিষ্ট দাগের মৌজা ম্যাপ বা নকশা।

৫. নামজারি খতিয়ান ও নামজারি আদেশের কপি।

৬. ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা।

৭. জমির দখল ও সীমানা-সংক্রান্ত প্রমাণ।

৮. উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়া হলে ওয়ারিশ সনদ এবং বণ্টনসংক্রান্ত দলিল বা আদালতের আদেশ, যদি থাকে।

৯. জমি মাপজোখের প্রতিবেদন বা নকশা।

ভূমি প্রশাসন ম্যানুয়ালে নামজারির আবেদনের ক্ষেত্রে মূল দলিল, বায়া দলিল, খতিয়ানের কপি, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা, চৌহদ্দিসহ কলমি নকশা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা আদেশের কপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জমি কেনার আগেই কীভাবে এ বিপদ এড়াবেন?

জমি কেনার পর দলিলের ভুল সংশোধনের চেয়ে কেনার আগেই যাচাই করা অনেক সহজ ও নিরাপদ।

প্রথমত, দলিলের পরিমাণের সঙ্গে খতিয়ান মিলিয়ে নিন। শুধু বিক্রেতার দেওয়া দলিল দেখে জমি কিনবেন না। পূর্ববর্তী দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ানও যাচাই করুন।

দ্বিতীয়ত, দাগ নম্বর ও মৌজা ম্যাপ পরীক্ষা করুন। একই মৌজায় কাছাকাছি দাগ নম্বরের জমি নিয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দলিলে উল্লেখ করা দাগ ও ম্যাপের অবস্থান মিলিয়ে নিন।

তৃতীয়ত, সরেজমিনে জমি মাপুন। দলিলে যতটুকু জমি লেখা আছে, বাস্তবে তার পুরোটা বুঝে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিরপেক্ষ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে যাচাই করুন।

চতুর্থত, চৌহদ্দি ও দখল যাচাই করুন। জমির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে কার জমি বা কী স্থাপনা রয়েছে, তা দলিলের বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

পঞ্চমত, বিক্রেতার মালিকানার অংশ যাচাই করুন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি হলে তাঁর প্রাপ্য অংশ কত, অন্য ওয়ারিশদের অংশ কত এবং আগে কোনো অংশ বিক্রি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

ষষ্ঠত, দলিলের অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ মিলিয়ে নিন। যেমন, ১০ শতাংশের জায়গায় অঙ্কে ১০ এবং কথায় দশ লেখা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। দলিলের তফসিল, দাগ, খতিয়ান ও চৌহদ্দির তথ্যও মিলিয়ে নিন।

জমির দলিলে কম-বেশি পরিমাণ লেখা থাকলে প্রথমেই সংশোধনের আবেদন বা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আগে জানতে হবে ভুলটি দলিলে, জরিপের খতিয়ানে, নামজারিতে, নাকি বাস্তব সীমানা ও দখলে।

দলিলে প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুল থাকলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় আদালতে দলিল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নামজারি খতিয়ানের নির্দিষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বিবিধ মামলা করা যেতে পারে। আর চূড়ান্ত জরিপ রেকর্ডের বিরোধ হলে আইন অনুযায়ী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নিতে হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দলিলের পরিমাণ, খতিয়ান, দাগ, মৌজা ম্যাপ, চৌহদ্দি ও বাস্তব দখল একসঙ্গে যাচাই করা। জমি-সংক্রান্ত বিরোধে দেরি করলে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হতে পারে এবং আইনে নির্ধারিত সময়সীমাও পেরিয়ে যেতে পারে। তাই অমিল ধরা পড়ার পর দ্রুত নথি সংগ্রহ করে ভূমি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ পথ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র ও আইনি ভিত্তি
1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ — ৩১–৩৪ ধারা: প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুলের কারণে দলিল প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ না করলে আদালতের মাধ্যমে সংশোধনের বিধান। আইনের ৩১ ধারা।

2. রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ — ১৪৫এ ধারা: চূড়ান্ত জরিপ রেকর্ডের বিরোধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও মামলা দায়েরের সময়সীমা। আইনের ১৪৫এ ধারা।

3. ভূমি মন্ত্রণালয় — বিবিধ (মিস) মামলা: নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ কম-বেশি হওয়া এবং সংশোধনের আবেদনপদ্ধতি। সরকারি নির্দেশনা।

4. ভূমি মন্ত্রণালয় — ভূমি প্রশাসন ম্যানুয়াল: নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় দলিল, খতিয়ান, নকশা ও অন্যান্য কাগজপত্রের নির্দেশনা। ভূমি প্রশাসন ম্যানুয়াল।

5. ভূমি মন্ত্রণালয় — মিউটেশন সিস্টেম: নামজারি খতিয়ানে কী কী তথ্য থাকে এবং মিউটেশনের উদ্দেশ্য কী। মিউটেশন-সংক্রান্ত সরকারি তথ্য।

6. ভূমি মন্ত্রণালয় — ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নির্দেশনা: ই-নামজারিতে খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধনের অভিন্ন প্রক্রিয়া। খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন নির্দেশনা

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত