দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
কিন্ত সে তাপমাত্রার রেকর্ড মানছেন না খেটে খাওয়া মানুষ। কাজের সন্ধানে প্রতিদিনই তাদের ঘরে থেকে বের হতে হচ্ছে। বাজারের টাকা রোজগার করে তবে ঘরে ফেরেন। ততক্ষণে ঘামে কর্দমাক্ত হয়ে একাকার হয়ে যান।

মোহাম্মাদপুরের ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন মিরাজ, শনিবার কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বারবার পানি দিয়ে সবজিগুলাকে তাজা রাখার চেষ্টা করছি। পানি দিলেও সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাচ্ছে। যে রোদ, চোখ মেলা যায় না। এলাকা এলাকা ঘুরেও কেনার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য সময় এক জায়গায় দাঁড়ায়া থাকলে আসা-যাওয়া করা মানুষের কাছেই বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হয়ে যায়। এখন কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছে না।
আসাদ গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক মনোয়ার শনিবার দুপুরে বলেছেন, রাস্তায় লোক কম, রিকশাও কম। আর কিছু টাকা পাইলে বাসায় চলে যাবো। প্রচণ্ড গরম, টেকা যায় না। কত টাকা পেয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, যে টাকা পেয়েছি তাকে একবেলা খাওয়া যাবে। সন্ধ্যার আবার রিকশা নিয়ে বের হতে হবে।

এভাবে তীব্র গরমে শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি নানা কাজে বাহিরে বের হওয়া মানুষেরাও হাঁসফাঁস করছেন। সবাই খুঁজছেন একটু শীতল ছায়া। তাই যে যেখানে ছায়া পাচ্ছেন সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছেন। ঢাকার বিভিন্ন পার্কে গাছের ছায়ায় শ্রমজীবীসহ নানা পেশার মানুষদের আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
এদিকে হিট অ্যালার্ট জারির পর শনিবার (২০ এপ্রিল) আগামী ৭ দিন সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া কলেজ-বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করেছে।
