বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিক নিপীড়ন ও ভয়ে আছে: অ্যামনেস্টি

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৯:২৮ এএম

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা ভয় ও দমন-পীড়নের মধ্যে রয়েছে। কারখানায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়মুক্তি পাওয়াকে পরিবেশের জন্য দায়ী করেছে সংস্থাটি। বুধবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, রানা প্লাজা ধস, আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনে শ্রমিকদের প্রাণহানি এবং ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনাগুলো।

অ্যামনেস্টি বলছে, গত মাসে রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর পূর্ণ হয়েছে। ওই ঘটনায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। এর পাঁচ মাস আগে তাজরীন ফ্যাশনসের কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১২ পোশাকশ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। দুটি ঘটনাই ঘটেছিল কর্মক্ষেত্রে নজরদারির অভাবে। এগুলো ব্যবসাসংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্য উদাহরণ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়া হয় এবং ন্যায়বিচার, মজুরি, সুরক্ষা এবং কাজের অবস্থার জন্য বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকেরা সোচ্চার হলে তাদের হয়রানি, ভয়ভীতি এবং সহিংসতাসহ অসংখ্য বাধার মুখোমুখি করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলামের মৃত্যুকে দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে শ্রমিকদের জন্য বকেয়া মজুরি আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিহত হন। একই বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালে আরও অন্তত চার পোশাকশ্রমিক মারা যান।

অ্যামনেস্টি অনুমান করছে, ২০২৩ সালে বিক্ষোভের পর থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৩৫টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় নামে বেনামে ৩৫ হাজার ৯০০ থেকে ৪৪ হাজার ৪৫০ শ্রমিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর ৩৫টি মামলার মধ্যে অন্তত ২৫টি মামলা করেছে কারখানাগুলো। এসব কারখানা বিশ্বের প্রধান প্রধান ফ্যাশন ব্র্যান্ডসহ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করে।

MB/FI
আরও পড়ুন