বইমেলায় হট্টগোলে স্টল বন্ধ, তদন্ত কমিটি

অমর একুশে বইমেলা থেকে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরানো হয় অভিনেত্রী ও প্রকাশক মেহরান সানজানা কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত, নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের বই ‘চুম্বন’।

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম

অমর একুশে বইমেলায় ‘সব্যসাচী’ স্টলে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের গল্পগ্রন্থ ‘চুম্বন’ রাখা নিয়ে হট্টগোলের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওই হট্টগোলের পর সন্ধ্যা থেকেই ‘সব্যসাচী’ প্রকাশনীর স্টল বন্ধ রয়েছে।

বাংলা একাডেমির সচিব ও বইমেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রধান সেলিম রেজা সাংবাদিকদের জানান, সোমবারের ওই ঘটনায় বাংলা একাডেমির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রকাশের পর পরই বইমেলা থেকে সরানো হয় তসলিমা নাসরিনের বই ‘চুম্বন’, ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

সেলিম রেজা বলেন, বাংলা একাডেমি স্টল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে পুলিশ আপাতত স্টল বন্ধ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্টলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে একাডেমি।

বইমেলায় ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সোমবার রাতে বিবৃতি দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে এ ঘটনার তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে।

অমর একুশে বইমেলা থেকে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরানো হয় অভিনেত্রী ও প্রকাশক মেহরান সানজানা কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত, নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের বই ‘চুম্বন’।

মেহরান নিজেই এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান। তার পোস্টটি তসলিমা নাসরিন শেয়ার দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ বিকালেই বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছিল গল্পগ্রন্থ ‘চুম্বন’। তসলিমা নাসরিন বইটির প্রচ্ছদ ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন।

মেহরান সানজানা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘বাংলা একাডেমির মেলার মাঠের দায়িত্বে যিনি আছেন আমাকে কল দিয়ে বললো তসলিমা নাসরিনের বই সরিয়ে ফেলতে। শাহবাগ থানার ওসিও একই কথা বললেন। বাধ্য হয়ে সরাতে হচ্ছে তসলিমা নাসরিনের চুম্বন বইটি।’

পরে সন্ধ্যায় ‘তৌহিদী জনতা’ বলে দাবি করা একদল লোক ‘সব্যসাচী’র স্টলটির সামনে এসে উত্তেজনা প্রকাশ করে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিওতে তাদের সঙ্গে সব্যসাচী’র আরেক প্রকাশক শতাব্দী ভবকে (তিনি সানজানার স্বামী) তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়। পরে স্টলটি বন্ধ হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন