গণপূর্তের কাজে গতি ফেরাতে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যার ভিতরে অন্যতম হচ্ছে ৩৩১টি নতুন পদ সৃজন। এই পদসৃষ্টির ফলে সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে জট কাজের ক্ষেত্রে বাগড়া দিচ্ছে তারও অবসান ঘটবে। সরকারের সময়োপযোগী এই পদক্ষেপের ফলে স্থবির হয়ে পড়া বিভাগটিতে প্রাণের স্পন্দন ঘটবে এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত নতুন ৩১১ পদ সৃজন করতে কাজ করছে যাচ্ছে সরকার। প্রশাসনের গতি আনতে এ প্রস্তাব অনুমোধন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এ প্রস্তাব পাশ করলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই লোক নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মো. মাহাবুব হাসান আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নতুন ৩১১ পদ সৃজনে অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কাজের চাপ বাড়ায় নতুন পদ সৃজনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদাধিকার দপ্তর বণ্টনের দিকে নজর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নতুন নিয়োগের প্রস্তাব চুড়ান্ত করলে অধিদপ্তরের কাজের সুবিধা হবে। কোন কর্মকর্তাদের দ্বিগুন কাজ করতে হবে না। সকল সেক্টরে কাজের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মাহাবুব হাসান জানান।
জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে মোট ৭ হাজার ৮৯৫জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে ১ম শ্রেণীর পদ সংখ্যা ৯৪২টি, ক্যাডার পদসংখ্যা ৯৩১টি, বিসিএস(গণপূর্ত) ক্যাডারে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ ৯৩১, নন-ক্যাডার পদ সংখ্যা ১১টি, উপ সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৮৫৭টি, উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ৩৯০ টি, অন্যান্য পদ (বিভাগীয় হিসাব রক্ষক-১০৪প্রশাসনিক কর্মকর্তা-৯, কল্যাণ কর্মকর্তা-১, ইমাম-৫ আরবরিকালচারিষ্ট-১সহ) ১২০টি, তৃতীয় শ্রেণি ৩ হাজার ৫১৮ এবং চতুর্থ শ্রেণি ২ হাজার ৬৮টি। দিন দিন অধিদপ্তরের প্রকল্প বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজ বেড়েছে।
এ বিষয়ে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ডাবল কাজ করতে হচ্ছে। ফলে কাজের সুফল বয়ে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা দূর করার জন্য অধিদপ্তরের লোক সংখ্যামোট ১০ হাজার লোকের সংখ্যা করার জন্য গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত ১৯ মার্চ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় এই প্রস্তাব থেকে নতুন ৩১১ জনের পদসৃজন করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এ প্রস্তাব চুড়ান্ত করলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন করে নিযোগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন বিভাগের সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীরা আশা প্রকাশ করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিসের ২৮০টি পদের সঙ্গে আরো ৩১টি পদ নতুন কে যুক্ত হয়েছে। নতুন করে সৃজন পদ যার সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১১টি। নতুন ৩১টি পদসৃজনের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ১২টি ক্যাডার পদ স্থায়ীভাবে এবং অন্যান্য ১৯টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে সৃজন করা হচ্ছে।
গণপূর্তের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলী জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সৃজনকৃত ৩১১টি পদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ১টি, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ১টি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২টি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ১টি, নির্বাহী প্রকৌশলী(সিভিল) পদে ২টি, নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ২টি, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ১টি, সহকারি প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ১টি, সহকারি প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ১টি, উপ-সহকারি প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ৩টি, উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ২টি, বিভাগীয় হিসাব রক্ষক পদে ২টি, অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৪টি, হিসাব সহকারি পদে ৪টি এবং অফিস সহায়ক হিসেবে ৪টি পদ সৃজন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার বলেন, নতুন পদসৃষ্টির খবরে সার্বিক ভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটলা কমবে। গণপূর্তে ৩১১টি পদ সৃজনে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা প্রকৌশলীদের ভাগ্য খুলবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানালেন, পদোন্নতি দিয়ে আগের পদেই বহাল রাখার একটি মন্দ নজির প্রশাসনে ছিল। তিনি বলেন, দিন দিনে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পসহ নানাবিধ উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। কিন্ত জনবল বাড়ানো হয়নি। তাই আমরা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে ১০ হাজার লোকের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। এই বিবেচনায় করে ৩১১ টি পদের অনুমোদন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়টি চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চুড়ান্ত হলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন।

