আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৪ পিএম

বিশ্বজুড়ে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবস (World Bamboo Day)। বাঁশের গুরুত্ব, ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপাদান হিসেবে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত বাড়তে সক্ষম এবং বহুমুখী ব্যবহারের জন্য বাঁশকে বলা হয় ‘সবুজ স্বর্ণ’। নির্মাণ, আসবাব, কাগজ, টেক্সটাইল, খাবার ও জ্বালানিসহ প্রায় ১,৫০০ ধরণের ব্যবহার রয়েছে বাঁশের। এটি কাঠের চমৎকার বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৮ম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, বাঁশের টেকসই ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা।

বাশেঁর তৈরি বাড়ি

বাংলাদেশে বাঁশ উৎপাদন ও ব্যবহার অনেক পুরনো। দেশটির গ্রামীণ জীবনে বাঁশের ব্যবহার একসময় ছিল সর্বব্যাপী। এখনো ঘরবাড়ি, খুঁটি, বেড়া, নৌকা, হস্তশিল্পসহ নানা কাজে বাঁশ ব্যবহৃত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশভিত্তিক ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য তৈরি করে দেশের তরুণ উদ্যোক্তারাও যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববাজারে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প খুঁজতে গিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই বাঁশ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ।

বাঁশ গবেষক ও পরিবেশবিদদের মতে, বাঁশ একটি পুনঃনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কার্বন শোষণ করে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমায়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও বাঁশ একটি কার্যকর হাতিয়ার।

বাংলাদেশে বাঁশের সঠিক প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই খাতটি হতে পারে টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বড় উৎস।

বিশ্ব বাঁশ দিবস শুধু বাঁশ উদযাপনের দিন নয়, এটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির টেকসই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেয়। সময় এসেছে বাঁশকে কেবল গৃহস্থালি পণ্য নয়, বরং একটি বৈশ্বিক পরিবেশবান্ধব শিল্প হিসেবে দেখতে শেখার।

DR/SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত