প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে বাঁশ-বেত শিল্প সঙ্কটাপন্ন

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০১ এএম

মো. ফসিয়ার রহমান, খুলনা (পাইকগাছা): বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় আর বেত বনের ঐতিহ্য গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ। যেখানে গ্রাম, সেখানে বাঁশঝাড় আর বেত বন। তরতাজা বাঁশ ও কুঞ্চি কেটে হরেক রকম জিনিস তৈরি করতেন গৃহিনীরা। দরিদ্র পরিবারের অনেকের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল বাঁশ-বেত শিল্পকে ঘিরে। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে এ শিল্প।

খুলনার পাইকগাছার গদাইপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক বাঁশ ও বেত সামগ্রী তৈরি হয়।  আর সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে সচরাচর বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি এসব উন্নতমানের পণ্যের এখন শুধু গ্রামীণ উৎসব বা মেলাতে দেখা মিলে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাঁশ-বেতের তৈরি খোল, চাটাই, খালুই, ধামা, দোয়াড়, আড়ি, টোনা, আড়, হাপটা, মোড়া, বুকসেলফ, এমনকি ড্রইং রুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো। তবে এখন খুব কম চোখে পড়ে। যেখানে তালপাতার হাত পাখারই কদর নেই, সেখানে অন্যগুলো তো পরের কথা। তবে এতো সমস্যার মধ্যেও মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগীর খাঁচা গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্নস্থানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে বাঁশ ও বেতের অপ্রতুলতার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দামে বাঁশ ও বেত কিনে পণ্য তৈরি করে লাভ খুবই কম হচ্ছে। সেকারণে বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হচ্ছে।

একই গ্রামের বিজলী রানী দাস বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাঁশ ও বেতের সামগ্রী আমরা যারা তৈরি করছি আমাদেরকে সরকার এবং বিভিন্ন এনজিও’র সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। বাঁশ ও বেতের সামগ্রীকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর পেছনের লোকগুলোকে আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে তাদের পেশাকে বাঁচাতে হবে।

পাইকগাছা বাজারে বাঁশ ও বেতের পণ্য বিক্রেতা বিশ্বজিৎ দাস জানান, প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে বাঁশ ও বেতের পণ্যের কদর কমেছে। কিছু সৌখিন ও নিম্নবিত্ত লোকের কারণে কোনো রকম এ শিল্প টিকে আছে। তবে আমার মনে হয় অচিরেই বাঁশ ও বেত শিল্প এই এলাকা থেকে হারিয়ে যাবে।

পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, বাঁশ ও বেত শিল্প বাঁচাতে হলে এর কারিগরদের বিনা সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নতুন পণ্য তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অন্যথায় এসব সুন্দর বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

RA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত