পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্য দিয়ে বাঙালি যে স্বাধীনতা হারিয়েছিল তার মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপন হয় এবং বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে। ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষের উপরে নিরঙ্কুশ শাসন ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল প্রায় দুইশত বছর। তখন তাদের নিজেদের দেশে ছিল রাজতন্ত্র আর আমরা ছিলাম তাদের দখলকৃত এলাকার দাস।
একটি জাতি যখন দুইশত বছর অন্যের দাস থাকে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের চিন্তা চেতনায় এই দাসত্ব স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসে। তারা স্বাধীন চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিলো যার বাস্তব চিত্র আমি জাতিসংঘে কাজ করতে যেয়ে দেখেছি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।
ব্রিটিশ দাসত্ব থেকে মুক্তির সংগ্রামে অনেকেই বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলো তার মধ্যে ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন এই সাহসী যোদ্ধাদের অন্যতম। যিনি ভারতীয়- বাঙালি ব্রিটিশ দাসত্ব থেকে বাঙালিকে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। তিনি ব্রিটিশ- বিরোধী বিপ্লবে পরবর্তীতে শহীদ হন। তার এই সংগ্রাম ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে নতুন করে মুক্তির নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলো।
সময়ের সাথে বাঙালি জাতি বুঝতে শিখে মুক্তি ছাড়া বাঙালি জাতির কোনো রাস্তা খোলা নেই। ধীরে ধীরে এ দেশের মানুষের রক্তে মুক্তির চেতনা বাসা বাঁধতে শুরু করে। ফলে এক সময় ব্রিটিশরা দেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, জন্ম হয় ভারত বর্ষের। তারপরও বাঙালির মুক্তির নেশা ডানা মেলতে থাকে। যার ফলে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন ভূখণ্ড। পরবর্তীতে স্বাধীন ভূখণ্ড এর জন্য দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা পাই স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
ক্ষুদিরাম থেকে শুরু করে ওসমান হাদি সবাই যেনো এ দেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতীক। ভূখণ্ড এর স্বাধীনতা পাওয়া মানেই যে দেশের স্বাধীনতা পাওয়া নয় তা ধীরে ধীরে এ দেশের মানুষ বুঝতে শিখে। অনুভব করে প্রকৃত মুক্তির জন্য আরো সংগ্রাম করতে হবে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে দেশে কাঙ্খিত মুক্তি সংগ্রাম হয়েছে। দেশ দেখেছে ৯০ এর গন-অভ্যুত্থান,জুলাই বিপ্লব সহ বেশ কিছু মুক্তির আন্দোলন। তাও কি অর্জিত হয়েছে আমাদের কাঙ্খিত মুক্তি! আজকের ওসমান হাদি প্রমাণ করে গেছে কিভাবে মুক্তির সংগ্রাম করতে হয়, কিভাবে প্রতিবাদী কন্ঠের প্রতীক হয়ে উঠতে হয় জাতির কাছে। তাই বারবার নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদী স্লোগান হয়ে উঠেছে ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’।
