হাসনাত আব্দুল্লাহ

হাদি হত্যার তিন সপ্তাহেও বিচার নি‌শ্চিত না হওয়া জাতির জন্য লজ্জার

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩০ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ভারতের গুন্ডামির বিরুদ্ধে যারা আপসহীন ছিলেন, শহীদ ওসমান হাদি তাদের অন্যতম। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, হাদি ভাই শহীদ হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও আমরা এখনো তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতির জন্য লজ্জার। আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই।’

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে কু‌মিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর চাঁন মিয়া মার্কেটের সামনে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তি‌নি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা দেখেছি, চোখের ইশারায়ও যদি বিএনপি-জামায়াত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করত, সেখানে সাথে সাথে গোয়েন্দা সংস্থা উপস্থিত হতো। অথচ ছয় মাস আগে ঘোষণা দিয়ে জুমার দি‌নে প্রকাশ্যে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হলো, হত্যার পর খুনিরা সীমান্তের ওপারে চলে গেলো—কিন্তু আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলো না।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ভারত ঠিক করে দিয়েছে আমাদের দেশ কে চালাবে। এদেশে অ্যাজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে, যেমন ব্যাংক অ্যাজেন্ট দেয়া হয়। এ দেশে মুদির অ্যাজেন্ট ছিল হাসিনা। অ্যাজেন্ট মালিকের কথামতো দেশ চালিয়েছে, আর যখন পারেনি, তখন সেই অ্যাজেন্টকে মালিক সরিয়ে নিয়েছে। ভারতের গুন্ডামি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ইনসাফের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপীদের প্রার্থী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা নতুন কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। যারা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয় না, জনগণের আমানতের টাকা ফেরত দেয় না, তারা সংসদে গিয়ে জনগণকে কী বার্তা দিতে চায়—তা আমাদের বোধগম্য নয়। 

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ করে চলে, দায় শোধ করে না, সে ব্যক্তি জনগণের সেবা করতে এলে কী ধরনের সেবা দেবে, তা আমাদের পরিষ্কার হয়ে গেছে। যারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও ঋণের টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসিতা করে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

এনসিপির এই নেতা বলেন, এসব ঋণখেলাপীরা সংসদে গিয়ে যেন জনগণের টাকা ফেরত দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই করবে। তাই ব্যালটের মাধ্যমে ঋণখেলাপীদের ‘না’ বলতে হবে।

HN
আরও পড়ুন